রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় মোবাইলের থ্রিজি-ফোরজি বন্ধ

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সেবা বন্ধ থাকবে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে এ নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নির্দেশনা পেয়ে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে এই সেবা বন্ধ রেখেছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর টেকনাফ ও উখিয়ায় প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিটিআরসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) মো. জাকির হোসেন খান বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসি’র নির্দেশনা মেনে অপারেটররা কাজ করছে। ওই সময়ে থ্রিজি ও ফোরজি ছাড়া মোবাইল অপারেটরগুলোর কারিগরি কাজ বজায় থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

টুজি সেবায় কেবল ভয়েস কল এবং এসএম পাঠানো যায়। থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করায় ভিডিও কল সম্ভব হবে না।

অ’বৈধভাবে সিম নিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা নানা অ’পকর্ম করে আসছেন বলে অভিযোগ আসছিল। মন্ত্রীর নির্দেশের পর এর আগে বিটিআরসি রোহিঙ্গাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি ক্যাম্পের সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রায় সবার হাতেই রয়েছে মোবাইল ফোন। বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ছাড়াই এত সিম কার্ড কীভাবে তাদের হাতে গেল, এই প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছে। কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় বলা হয়েছে, ৮/১০ লাখের মত মোবাইল সিম ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যে সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৩টি অস্ত্র ও বিপুল মাদক।

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, শুধু মোবাইল সিম নয়, ক্যাম্পগুলোতে থ্রি-জি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেটও ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনেও বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকে। ফলে সেখানেও অনেকে বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক ডজনের বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ বর্তমানে এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, স্থানীয়দের এখানে বসবাস কঠিন হয়ে উঠেছে। এদের ভার স্থানীয়রা আর নিতে পারছে না। তাদের শিগরিরই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে এ সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 139
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply