মাত্র ৩০০-৫০০ টাকায় মেলে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ

0

সময় এখন ডেস্ক:

রক্ষকরাই যদি ভক্ষকের ভূমিকায় নেমে পড়ে, তখন অপরাধীকে পাকড়াও করা হয়ে ওঠে বড় মুশকিল! আর এভাবেই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে জাতীয় জন্মনিবন্ধন অনলাইন সার্ভার।

জন্মসনদ প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে সার্ভারের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করছে সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মকর্তা। পরে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা ও ফেরারি আসামিদের জন্মনিবন্ধন করে পাসপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র।

র‌্যাব জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যতম সদস্য সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে অ’বৈধভাবে জন্মসনদ তৈরি চক্রের ৬ সদস্য ধরা পড়ার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে জন্মনিবন্ধনের অনলাইন সার্ভারের সুরক্ষা নিয়ে। আসামিদের জেরার পর ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া জানতে পেরেছে র‌্যাব।

প্রথম ধাপে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ নির্ধারিত কম্পিউটারের দোকানদারের কাছে পাঠায় দালালরা। তারপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন কোড নম্বর তৈরি করে দেয় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা।

কখনও কখনও দোকানদারকে ‘অনলাইন জন্মনিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থা’র ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে দেয় তারা। তখন দোকানদাররাই কোড তৈরি করে নেয়। পরে আসল জন্মনিবন্ধন সনদে থাকা কর্মকর্তার সই, সিল স্ক্যান করে বসিয়ে দিয়ে অ’বৈধ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় বৈধ জন্মসনদ।

জন্মসনদ তৈরি চক্রের সদস্য আজিম আহমেদ জানান, আমাদের সাথে একজন কাজ করে তার নাম ফজলুল করিম। সে সার্ভার নিয়ে কাজ করে। চক্রের সদস্য ফজলুল করিম জানান, মাইনুদ্দিন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে চাকরি করে। তার সাথে আমার পরিচয় হয়। তারপর থেকে এ কাজ করছি।

এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে সৌদি প্রবাসী বায়েজীদ আলমকে চিহ্নিত করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা সদস্যদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নাম-ঠিকানা-জন্ম তারিখ পাঠান তিনি। বাংলাদেশ থেকে জন্মসনদ তৈরি করে পাঠানো হয় বায়েজীদের কাছে। তারপর বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে সেই রোহিঙ্গারা। বায়েজীদকে সহায়তা করেন জেদ্দা কনস্যুলেটে আইটি বিভাগে কর্মরত মোস্তফা আলম।

জন্মসনদ তৈরি চক্রের সদস্য আজিম আহমেদ আরও বলেন, জেদ্দা এ্যাম্বাসির একজন মোস্তফা কামাল। তার রেফারেন্সে আমি বায়েজীদকে চিনি। মোস্তফা কামাল আমাকে ফোনে বায়েজীদের কথা জানান। তার সাথে কাজ করতে বলেন। জানান কোন সমস্যা হবে না।

গ্রেপ্তার ৬ জনের অন্যতম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন। এ বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের অপরাধে অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে।

র‌্যাব বলছে, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি ফেরারি আসামিদের জন্মসনদ তৈরিতেও জড়িত চক্রটি। র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের যোগসাজশে তারা এটা করে। ফেরারি, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরাও এটার সুযোগ নিয়ে থাকে।

চক্রটির অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায়া আনতে জন্মসনদ প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

শেয়ার করুন !
  • 436
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply