জ’ঙ্গিরা কি চাঁদ থেকে এসেছে: পাকিস্থানকে ইইউ’র প্রশ্ন

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জ’ঙ্গিবাদের প্রশ্নে আবারও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে পাকিস্থানকে। অপরদিকে ভারতের প্রতিই সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় নেতারা। সন্ত্রা’সবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্থানের বিরু’দ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

২০০৮ সালের পর দ্বিতীয়বার কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলো ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পার্লামেন্টে। জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর ভারতের সঙ্গে সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে পাকিস্থান সরকার।

শুধু তাই নয়, বিশ্বের মঞ্চে ভারতকে একঘরে করতেও বদ্ধপরিকর ইসলামাবাদ। কিন্তু জাতিসংঘের পর এবার ইউরোপিয়ন ইউনিয়নও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পাশেই দাঁড়াল।

ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে পোল্যান্ডের নেতা ও ইউনিয়নের নেতা রিজার্ড কারনেকি বলেন, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। জম্মু-কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে যে সন্ত্রা’সবাদী হাম’লা হয়ে আসছে আমাদের সে বিষয়ে কথা বলা উচিত। জ’ঙ্গিরা চাঁদ থেকে আসে না। জ’ঙ্গিরা আসে পাশের দেশ থেকে। আমাদের সকলের উচিত ভারতকে এ বিষয়ে সমর্থন করা।

কারনেকির বক্তব্যে সুর মিলিয়ে ইতালির নেতা ফুলভিও মার্তুসিল্লো বলেন, পাকিস্থান পরমাণু যুদ্ধের হুম’কি দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্থান এমন একটি জায়গা যেখানে বসে জ’ঙ্গি সংগঠনগুলো ইউরোপে সন্ত্রা’সবাদী হাম’লার ছক করে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের বলছে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমেই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।

মুসলিম বালিকা ফাতেমাকে কুমারী রূপে পুজার প্রস্তুতি

লাল বেনারসি, পায়ে আলতা, রক্তচন্দনের টিপ, মাথায় ফুলের মুকুট নিয়ে দুর্গাষ্টমীর দিন পুজিতা হবেন কুমারী। এবার দুর্গা পুজার অষ্টমীর দিন ৪ বছর বয়সী যে বালিকা কুমারী রূপে পুজিতা হবে, তার নাম ফাতেমা।

সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার সময়ে এক মুসলিম বালিকাকে কুমারী রূপে পুজা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার বাগুইআটির অর্জুনপুরের দত্তবাড়ি। আর এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে চারদিকে। ধর্ম, বর্ণ, মত নির্বিশেষে অধিকাংশ মানুষই একে অসাম্প্রদায়িক ভারতের এক অনন্য নিদর্শন বলে প্রশংসা করছেন। পাশাপাশি আয়োজক দত্তবাড়ির কর্তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন হিন্দু ধর্মীয় রীতির বাইরে গিয়ে মহৎ চিন্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য।

ফাতেমাকে ‘কালিকা’ রূপে সিংহাসনে বসিয়ে আরাধনা ও পুজার্চনা করবেন দত্তবাড়ির কুলবধূ মৌসুমী দত্ত। তার কথায়, ‘যে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত করে, ঈশ্বরের অর্ঘ্য থেকে সে বঞ্চিত হয়। অষ্টমীর দিন তাই দুর্গা রূপে বরণ করে নেব ফাতেমাকে।’

পেশায় আইনজীবি মৌসুমী দেবী জানান, ‘প্রথম থেকেই দত্তবাড়িতে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। সে বছর এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে পূজা করি, তার পরের বছর অব্রাক্ষণ বাড়ির মেয়ে, ২০১৪ সালে ডোম পরিবারের এক শিশু কন্যা, গত বছর ফের এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়েকে কুমারী হিসাবে পূজা করি। বাড়ির সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এবার সিদ্ধান্ত হয় যে দুর্গাপুজায় কোনো জাতপাতের ভেদাভেদ রাখব না আমরা। সেই মতে এবছর মুসলিম শিশু কন্যাকে পূজো করার সিদ্ধান্ত নেই।’

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে কামারহাটির বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিনি তার ভাগ্নি- বয়স ৪, নাম ফাতেমাকে দিতে রাজি হন। ফাতেমা এখন মামাবাড়িতে ঘুরতে কলকাতায় এসেছে। তাকেই অষ্টমীর দিন বরণ করে নেবে দত্তবাড়ি।

তারপর তাকে লাল টুকটুকে বেনারসি, চন্দন, ফুলের মালা দিয়ে দুর্গা প্রতিমার মতো করে সাজিয়ে কুমারী পূজা করা হবে। সে দিনটির দিকেই তাকিয়ে দুই পরিবার।

শেয়ার করুন !
  • 362
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply