এরশাদপুত্র সাদের নির্বাচন, পাশে নেই মা-রওশন ও চাচা-কাদের

0

রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনে সাদ এরশাদ নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাচ্ছেন না জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান মা রওশন এরশাদ এবং দলের চেয়ারম্যান চাচা জিএম কাদেরকেও। এমনকি দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকেও নির্বাচনকালীন পাশে পাবেন না জাপা প্রার্থী।

কেননা নির্বাচনী বিধিমালায় কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সিটি মেয়র নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। তাই এরা কেউ রংপুর সদর আসনে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। তবে সংসদীয় এলাকার বাইরে বৈঠক করতে পারবেন সাদ এরশাদ।

জানা গেছে, নির্বাচনের ২/৪ দিন আগে করণীয় নিয়ে জিএম কাদের, রওশন এরশাদ, রাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকটি হবে গঙ্গাচড়া উপজেলায়। সদর আসনের খুব কাছেই গঙ্গাচড়া। দলের মহাসচিব ও সংসদের বিরো’ধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা ওই আসনের এমপি হওয়ায় আলোচনার উপযুক্ত স্থান মনে করা হচ্ছে সেটিকে।

এ বিষয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, নির্বাচনী বিধিমালার কারণে কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাতে পারবেন না। এটিই নিয়ম। আমরা নিয়ম ভাঙতে চাই না। তাই আমরা খুব দ্রত সদর আসনের বাইরে গঙ্গাচড়ায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বসব। ওই বৈঠকে দলের কো-চেয়ারম্যান সাদ এরশাদের মা রওশান এরশাদসহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, লাঙ্গলের ঘাঁটি রংপুর। বরাবরের মতো এবারও এ আসনের ভোটাররা প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন, এটা আমার বিশ্বাস।

তবে দেখা গেছে, জাপা প্রার্থী এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ হাতে গোনা কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার এ আসন থেকে স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করছেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাও সাদ প্রশ্নে নীরব।

এ ছাড়া জাপার মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন বঞ্চিত ইয়াসির আহমেদও নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে রেখেছেন। দলের কেন্দ্রীয় কোনো নেতা সাদের পাশে না থাকায় নগরবাসীর মাঝে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। জাপার জন্য সম্মানজনক এ আসনে নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে না থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। জোটগত কৌশলের কারণে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির রিটা রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার ছাড়াও এখানে অন্য দলের আরও ৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী মাঠে শুধু ৩ প্রার্থীকেই গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সাদ এরশাদ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আসিফ শাহরিয়ার ও রিটা রহমানও নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাদ এরশাদের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজউদ্দীন আহমেদ।

এদিকে রিটার্নিং অফিসার জিএম শাহতাব উদ্দিন জানান, সদর আসনের নির্বাচনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রচারে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। কেউ বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারে অংশগ্রহণ করলে তাদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply