চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে থরহরি কম্প!

0

সময় এখন ডেস্ক:

জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে ঘু’ষের বিনিময়ে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্তের বর্তমান ও সাবেক কয়েক প্রকৌশলীর বিরু’দ্ধে। এ জন্য তারা শত শত কোটি টাকা ঘু’ষ নিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসা’বাদে জানিয়েছেন শামীম।

এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে তদন্ত। গণপূর্তের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অভিযুক্ত সাবেক ২ প্রধান প্রকৌশলীসহ ৫ প্রকৌশলী এবং তাদের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়েছে। এতে আত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে।

এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাব ও লেনদেনের যাবতীয় তথ্য পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে- বর্ণিত করদাতাগণ ও তাদের মালিকানাধীন একক বা যৌথ নামে ব্যাংকে পরিচালিত যে কোনো মেয়াদি আমানত (এফডিআর ও সব মেয়াদের হিসাব), সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকের ভল্ট বা লকারে স্বর্ণালঙ্কার বা অন্য কোনো সম্পদ থাকলে তার তথ্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে জানাতে হবে। ২০১২ সালের জুলাইয়ের পরবর্তী সময়কালের এ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে বন্ধ আছে- এমন অ্যাকাউন্টেরও তথ্য চেয়েছে এনবিআর।

সম্প্রতি র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরো’ধী অভিযানে আটক হন জি কে বিল্ডার্সের মালিক ও যুবলীগনেতা জি কে শামীম। তিনি র‌্যাব হেড কোয়ার্টারসহ বড় ১৭টি প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছেন। এক কোম্পানি কীভাবে এত কাজ পেল, সেই বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জি কে শামীমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসা’বাদকালে তিনি স্বীকার করেছেন, শত শত কোটি টাকা ঘু’ষ দিয়ে এবং প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে তিনি এসব কাজ পেয়েছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক ২ প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান মুন্সীর হিসাব তলব করেছে এনবিআর। হাফিজুর রহমান মুন্সী ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। এনবিআর তার স্ত্রী মারুফা রহমান কান্তার ব্যাংক হিসাবেরও তথ্য চেয়েছে। রফিকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। তার স্ত্রী রাশেদা ইসলামের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে এনবিআর।

সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই ও তার স্ত্রী বনানী সুলতানার ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে এনবিআর।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশলী এসএএম ফজলুল কবিরের আয়-ব্যয় খতিয়ে দেখছে এনবিআর। এনবিআরের সিআইসি সেল তার এবং তার স্ত্রী কাসপিয়া শিরিনের ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য চেয়েছে।

জি কে শামীমের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত মুমিতুর। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমান। মোটা অঙ্কের ঘু’ষ লেনদেনের ক্রীড়নক হিসেবে তিনি তারকা ঠিকাদার জি কে শামীমের সব কাজ বাগিয়ে দিতেন। বিনিময়ে পেতেন কমিশন, যার ভাগ আরও কিছু প্রভাবশালী মহলে সময়মতো পৌঁছে দিতেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পুলিশের জিজ্ঞাসা’বাদে মুখ খুলেছেন ‘টেন্ডার কিং’খ্যাত ঠিকাদার জি কে শামীম। তিনি এরইমধ্যে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে কর্মরত বেশ কয়েক পদস্থ কর্মকর্তার নামও বলেছেন, যারা মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শামীমকে অ’বৈধ পথে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতেন। এছাড়া জি কে শামীমের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদের বেশ কয়েক কর্মকর্তাও বিভিন্ন টেন্ডার সংক্রান্ত ফাইল দেখভাল করতেন। তিনি বেশ কয়েক ঠিকাদার ও তদবিরবাজের সমন্বয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

সাবেক যুবদল নেতা ও মির্জা আব্বাসের ডানহাত খ্যাত জি কে শামীম আটক হওয়ার পর ফাঁ’স হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজ পেতে তিনি সেখানকার ২ কর্মকর্তাকে দেড় হাজার কোটি টাকা ঘু’ষ দিয়েছেন। এদিকে অ’বৈধ ক্যাসিনো পরিচালনায় অভিযুক্ত জি কে শামীমের অ’নিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রী বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তিনি ঠিকাদারি কাজ পেয়েছেন, সেটি নিয়মের অধীনে ছিল নাকি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করা হয়েছিল- সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে নগদ টাকা, ক্যাসিনো সামগ্রী, অ’বৈধ অ’স্ত্রসহ আটক হয়েছেন যুবলীগনেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। অভিযুক্তদের ব্যাংকিং লেনদেন ও অ’বৈধ সম্পদের খোঁজে নেমেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ এবং এনবিআর।

আটককৃতদের বাইরে সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের অ্যাকাউন্ট জ’ব্দ ও তথ্য তলব করা হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 142
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply