জাবি শিক্ষক দ্বারা হ্যারাসমেন্টের শি’কার ছাত্রীর আত্মহ’ননের চেষ্টা

0

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষকের বিরু’দ্ধে একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রীকে যৌ’ন হয়রা’নির অভিযোগ উঠেছে। তবে বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ওই ছাত্রী আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ড. সানোয়ার সিরাজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তার বিরু’দ্ধে বিভাগীয় সভাপতি বরাবর যৌ’ন হয়রা’নির লিখিত অভিযোগ দেন ভিক্টিম ছাত্রী।

এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা জানান, গত বুধবার অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌ’ন নিপী’ড়ন বিরো’ধী সেলে পাঠানো হয়েছে।

ভিক্টিম ওই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ১ বছর ধরে যৌ’ন হয়রা’নির অভিযোগ করে লড়ে আসছিলেন তিনি। কোনো বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই ছাত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ২৬টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে দুপুরে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী জানান, ২০১৮ সালে তিনি তার ৩য় পর্বের একটি কোর্সের মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি কোর্স শিক্ষক অভিযুক্ত সানওয়ার সিরাজের শরণা’পন্ন হন। সে সময় ওই শিক্ষক ছাত্রীর ফোন নম্বর নেন এবং যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ করতে বলেন। পরদিন শিক্ষক নিজেই ওই ছাত্রীকে ফোন করে পরীক্ষা কেমন হলো তা জানতে চান। সেদিন রাতে শিক্ষক সানওয়ার সিরাজ ছাত্রীর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তার সঙ্গে ঘোরাফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ভিক্টিম ছাত্রী বলেন, হঠাৎ করে তার এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই। পরবর্তী সময়ে আমি বিভাগে গিয়ে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল কিনা, তা জানতে চাই। তিনি নিশ্চিত করেন, আইডি হ্যাক হয়নি। তিনি নিজেই ওইসব মেসেজ পাঠিয়েছেন।

ওই ছাত্রী বলেন, পরীক্ষা চলাকালেই ওই শিক্ষক আমাকে জামা উপহার, রেস্টুরেন্টে খাওয়া, রাতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ও স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার বাসায় রাত যাপনের প্রস্তাব দেন।

ব্যর্থ হয়ে ওই শিক্ষক তার কোর্সে কম নম্বর দেন। ধারাবাহিক অ’ত্যাচারে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণা’পন্ন হন বলেও জানান ভিক্টিম ওই ছাত্রী।

বিভাগে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এক সেমিনারে নিজের যৌ’ন হয়রা’নির বিষয়টি উত্থাপন করায় বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম তার ওপর ক্ষি’প্ত হন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

ওই ছাত্রী বলেন, আমি যৌ’ন হয়রা’নির তথ্যপ্রমাণ বিভাগের তৎকালীন সভাপতির কাছে হস্তান্তর করি। তিনি আমাকে সহানুভূতি জানিয়ে এসব ভুলে গিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। আর অভিযোগের গোপনীয়তা রক্ষা না করে তিনি বিষয়টি শিক্ষকদের মাঝে ছড়ান।

এ বিষয়ে বিভাগের সদ্য সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম বলেন, আমাকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আমার নামে যা বলেছে, তা বানিয়ে বলছে। আমি আমার বক্তব্যে তার বিরু’দ্ধে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলিনি। বরং তার কথা শোনার জন্য ওই সেমিনারের পরে তাকে খুঁজেছি, তার বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়েছি।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!