টিআইবির অপেশাদার প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানালো আইইডিসিআর

0

সময় এখন ডেস্ক:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত ঢাকা শহরে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়, শীর্ষক প্রতিবেদনে আইইডিসিআর সংক্রান্ত অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর টিআইবি প্রকাশিত ঢাকা শহরে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়, শীর্ষক প্রতিবেদনে কীটনা’শক কার্যকারিতা পরীক্ষা সীমাবদ্ধতা ও অ’নিয়ম দু’র্নীতি অনুচ্ছেদ ২.১.৪ ও ২.৬.২ নিয়ে আইইডিসিআরের বক্তব্য নিম্নরূপ:

কীটনা’শক পরীক্ষায় আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রণীত বিভিন্ন প্রটোকল অনুসরণ করে। ঢাকার বাইরে থেকে মশা এনে পরীক্ষা করা হয় এরকম বক্তব্য সঠিক নয়। এ সকল পরীক্ষা মূলত প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত মশা ও লার্ভার ওপর করা হয়ে থাকে। আইইডিসিআর সময়ে সময়ে ভেক্টর সার্ভিলেন্স/ গবেষণা করে থাকে এবং সঙ্গত কারণেই তখন ঢাকা ঢাকার বাইরে থেকে মশা এনে তা করা হয়।

আইইডিসিআর নিজস্ব পরীক্ষাগারে বায়ু এফিকেসি পরীক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্দেশিত রিয়ারিং কলোনিসহ প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে। মশারির মধ্যে ফগিং করে পরীক্ষা করা হয় এবং এমন বক্তব্য উদ্ভট ও বানোয়াট। কীটনা’শকের কার্যকারিতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে অ’নিয়ম দু’র্নীতি সংক্রান্ত তথ্য মিথ্যা ও অ’মূলক।

আইইডিসিআর কোনো কোম্পানি কর্তৃক সরাসরি প্রেরিত কীটনাশক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গ্রহণ করে না। পরীক্ষার জন্য উদ্ভিদ সংরক্ষণ/ সিটি করপোরেশন/ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত নমুনা কোড নাম্বারের মাধ্যমে মাস্কিং পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। এ পদ্ধতিতে কোনোভাবেই কোম্পানি বা সংস্থার নাম জানা সম্ভব নয়। অতএব নিয়মবহি’র্ভূতভাবে অর্থের মাধ্যমে সনদ প্রদান কিংবা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়া সংক্রান্ত প্রকাশিত বক্তব্য মিথ্যা ও আইইডিসিআর এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

চিকিৎসক দিয়ে কীটনা’শক পরীক্ষা করা যাবে না- এরকম বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য যে আইইডিসিআরে কর্মরত চিকিৎসকগণ জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী; জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পড়াশোনায় কীটতত্ত্ব বিষয় অন্তর্ভুক্ত। কীটনা’শক পরীক্ষার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারীরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। আইইডিসিআর মেডিকেল এন্টোমলজি বিভাগ দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। এ ধরনের বক্তব্য নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবলে আঘা’ত করা হয়।

সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রেরিত একই কীটনা’শকের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নমুনা ভিন্ন ফলাফল প্রসঙ্গে আইইডিসিআর জানাচ্ছে যে, কেবলমাত্র প্রেরিত নমুনা পরীক্ষা করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে হুবহু পাঠানো হয়। কীটনা’শক প্রয়োগ পদ্ধতির সাথে আইইডিসিআরের কখনই কোনভাবে একক সম্পৃক্ততা নেই।আইইডিসিআরের কাছে প্রেরিত নমুনা পরীক্ষা করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে শুধুমাত্র সরবরাহ করে এবং কোনরকম সুপারিশ করে না।

আইইডিসিআর সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের অপেশাদারী প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শেয়ার করুন !
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply