স্বাস্থ্য পরামর্শ: ত্বকের ক্যান্সার নিজেই পরীক্ষা করুন

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

স্কিন ক্যান্সার বা ত্বকের মর’ণব্যাধি ত্বকেই হয়। শরীরের যেসব অংশ উন্মুুক্ত থাকে, যেমন- মুখ, গলা, হাত, পিঠ ইত্যাদি অংশে সাধারণত এ ক্যান্সার হয়ে থাকে। সাধারণত ৩০ থেকে ৫১ বছর বয়সী মানুষের এ ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ক্যান্সার এখন খুব স্বাভাবিক রোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ ভুগছে এ রোগে। মৃ’ত্যুবরণও করছে। স্কিন ক্যান্সার থেকে নিজের ত্বক রক্ষা করা সম্ভব।

রোগের লক্ষণ: ত্বকে বিভিন্ন বর্ণের সংমিশ্রণ দেখা দেয়। যেমন- বাদামি, কালো, লাল, সাদা, নীল ইত্যাদি। আবার চামড়ার উপরিভাগ খসখসে হয়ে উঠে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে তরল জাতীয় কিছু পদার্থ নির্গমন হতে পারে। শরীরের উপরিভগের ত্বকে এডিমা বা তেলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। অস্বাভাবিক অনুভূতি, যেমন- চুলকানি, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি অনুভূত হতে পারে।

নিজেই পরীক্ষা করুন: হাতের করতল, আঙুল, বাহু ইত্যাদির চামড়া পরীক্ষা করতে কনুই ভাঁজ করে দেখুন, ওপরের কোনো লক্ষণ দেখা যায় কিনা; শরীরের বহির্ভাগ, যেমন- মুখ, গলা, বুক, পেট ইত্যাদির ত্বক পরীক্ষা করা; হাত উঁচু করে শরীরের দু’পাশের চামড়াও পরীক্ষা করতে হবে; আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শরীরের পেছনের অংশের চামড়াও পরীক্ষা করতে হবে।

এক্ষেত্রে অন্য কারো সাহায্য নেওয়া যেতে পারে; চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানোর সময় লক্ষ্য করতে হবে মাথার ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো কিছু অনুভূত হয় কি না; পা, পায়ের পাতা, আঙুল ইত্যাদিও পরীক্ষা করুন এবং ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

যাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি: বেশিরভাগ সময় যারা বাইরে থাকেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অন্তত দুজন বা তার বেশি কারো এ ক্যান্সার থাকলে, যাদের চুল লাল বা সোনালি বর্ণের, যাদের চামড়া অতিরিক্ত স্পর্শকা’তর বা সহজে দাগ পড়ে যায়, ছোটবেলায় অতিরিক্ত সানবার্ন হয়ে থাকলে এবং যারা পিচ, আলকাতরা, মিনারেল অয়েল ইত্যাদির সংস্পর্শে কাজ করেন তাদের এ ক্যান্সার হওয়ার আশ’ঙ্কা বেশি।

চিকিৎসা: স্কিন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কার্যকরী চিকিৎসা হলো সার্জারি। কেননা সার্জারির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ অপসারণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সূক্ষ্ম আক্রম’ণকারী থেরাপি দিয়ে রোগটি নির্মূল করা যায়। তবে সূক্ষ্ম আক্রম’ণকারী থেরাপি ট্র্যাডিশনাল সার্জারি এবং কেমোথেরাপির ঘাটতি পূরণ করে। এ থেরাপি ক্যান্সার কোষ ধ্বং’স করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্র’তিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। পুনরায় ক্যান্সার ফিরে আসাও প্র’তিরোধ করে। এটি সার্জারির জ’টিলতামুক্ত এবং কোনো ধরনের র’ক্তপাত নেই।

পরামর্শ: প্রতিমাসে একবার ত্বকের ভালো কোনো চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। এতে নিজের দেহের ত্বকের প্রতি চিন্তামুক্ত থাকা যায়।

লেখক: ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
পরিচিতি: সহকারী অধ্যাপক, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

শেয়ার করুন !
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply