ফেইক নিউজের জন্যও রয়েছে পুরস্কার!

0

বিশ্ব বিচিত্রা ডেস্ক:

২০১৮ সালের ১৭ জানিয়ারি ‘ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ ঘোষণা করেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে যেসব ভিত্তি’হীন ও মিথ্যা খবর প্রচারিত হয়েছে, সেগুলো যেসব সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যম কভার করেছে, তাদের এই পুরস্কারে ‘সম্মানিত’ করা হয়। দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পবিরো’ধী প্রায় ৯০ শতাংশ খবরই মিথ্যা!

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির প্রায় সব সংবাদমাধ্যমই এ তালিকায় রয়েছে। এমনকি এক নোবেলজয়ী ব্যক্তিও ‘সম্মানিত’ হয়েছেন এই ফেইক নিউজ অ্যাওয়ার্ড-এ।

বিশ্বের কিছু অদ্ভুত পুরস্কার

পুরস্কার বলতে ব্যক্তি বা দলগত পর্যায়ে সাফল্যের স্বীকৃতি কিংবা কর্মদক্ষতার উজ্জ্বল নিদর্শনের ফলে প্রাপ্ত পদক বা সম্মাননাকে বোঝায়। সাফল্যের স্বীকৃতি কিংবা উজ্জ্বল কর্মদক্ষতার জন্যই যে সব সময় পুরস্কার দেওয়া হয়, তা কিন্তু নয়। সবচেয়ে ভালো অভিনয়ের জন্য যেমন পুরস্কার আছে, সবচেয়ে খা’রাপ অভিনয়ের জন্যও আছে! সবচেয়ে আপ’ত্তিকর বক্তব্যের জন্যও রয়েছে পুরস্কার! এমনই অনেক অদ্ভুত বিষয়েই পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

গোল্ডেন রাস্পবেরি পুরস্কার

সিনেমায় ভালো পারফরম্যান্সের জন্য সারা বিশ্বে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা বা পুরস্কার। কিন্তু ১৯৮১ সাল থেকে আমেরিকায় সবচেয়ে বা’জে সিনেমাগুলোকে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো নিম্ন’মানের সিনেমা বানাতে নির্মাতাদের নিরু’ৎসাহিত করা। অস্কারের একেবারে বিপরীত উদ্দেশ্য এটির। অস্কার যেমন দেওয়া হয় উৎকৃষ্ট’তার স্মারক হিসেবে। রাবিশ পুরস্কার দেওয়া হয় নিকৃ’ষ্টতার স্বীকৃতি হিসেবে।

হলিউডে দেওয়া এই পুরস্কারের নাম গোল্ডেন রাস্পবেরি পুরস্কার সংক্ষেপে যাকে বলা হয় রাবিশ বা জিআরএ। এর দেখাদেখি ২০০৯ সালে ভারতে শুরু হয় গোল্ডেন কেলা (কলা) পুরস্কার। যে সন্ধ্যায় অস্কার দেওয়া হয় ঠিক তার আগের দিন দেওয়া হয় গোল্ডেন রাস্পবেরি অ্যাওয়ার্ডস। বলাই বাহুল্য, অস্কারে যেমন তারার মেলা বসে, এখানে ঠিক তার বিপরীত। সাধারণত কোনো তারকা উপযাচক হয়ে এই গঞ্জ’নামূলক পুরস্কার (!) নিতে এখানে আসে না।

তবে একেবারে যে আসে না, তা নয়। বেশ কয়েকজন তারকা এর প্রহসনমূল্য বুঝতে পেরে হাজিরা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন টম গ্রিন (নিকৃ’ষ্টতম অভিনেতা ও পরিচালক), হ্যালি বেরি (নিকৃ’ষ্টতম অভিনেত্রী), স্যান্ড্রা বুলক (নিকৃষ্ট’তম অভিনেত্রী), মাইকেল ফেরিস (নিকৃ’ষ্টতম চিত্রনাট্য), জো এস্টারহাস (নিকৃ’ষ্টতম চিত্রনাট্য) এবং পল ভারহোভেন (নিকৃ’ষ্টতম পরিচালক)।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৯৮ সালে ব্রায়ান হেলগেল্যান্ড এবং ২০১০ সালে স্যান্ড্রা বুলক রাবিশ গঞ্জ’না লাভের পরের সন্ধ্যায়ই অস্কার পেয়েছিলেন, তবে অন্য চলচ্চিত্রের জন্য।

ব্যাড-সেক্স-ইন ফিকশন

ব্রিটেনের সবচেয়ে ভয়’ঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার এটি। এ পুরস্কার দেওয়া হয় এমন ঔপন্যাসিকদের, যারা তাদের লেখায় সবচেয়ে বা’জেভাবে যৌ’ন সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন। এটি দেওয়া হয় ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘লিটারেরি রিভিউ’-এর পক্ষ থেকে। রোডা কইনিগ একজন সাহিত্য সমালোচক ১৯৯৩ সালে এর প্রচলন করেন। পুরস্কারটি দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো আধুনিক সাহিত্যে যৌ’নতাকে উপভোগের অ’যোগ্য হিসেবে তুলে ধরাকে নিরু’ৎসাহিত করা।

গোল্ডেন কলার পুরস্কার

এটা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার। দেওয়া হয় শুধু কুকুরদের। সবচেয়ে ভালো অভিনেতা কুকুরকে স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার আয়োজন করা হয় ২০১২ সালে। আয়োজন করে ডগ নিউজ ডেইলি নামের একটি ওয়েবসাইট। ৫টি ভাগে প্রতিবছর দেওয়া হয় এটি। সিমন তাভাসলির নকশা করা ট্রফি দেওয়া হয় এখানে।

বিগ ব্রাদার পুরস্কার

বিখ্যাত উপন্যাস ‘নাইন্টিন এইটি ফোর’-এর বিগ ব্রাদার চরিত্র জর্জ অরওয়েলের নামে এই পুরস্কার। বিগ ব্রাদার পুরস্কারটি সেই সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় যারা এমন কিছু কাজ করে, যাতে মানুষের প্রাইভেসি ন’ষ্ট হয়! বিভিন্ন দেশে যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে এই পুরস্কার দেওয়ার রীতি আছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা মানুষের প্রাইভেসি ভ’ঙ্গের প্র’তিবাদে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

ডারউইন পুরস্কার

চার্লস ডারউইনের নামে এই পুরস্কারের প্রচলন। এটি একটি ম’রণোত্তর পুরস্কার যা দেওয়া হয় সেই সব মানুষকে, যারা জিন পুলকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। সহজ কথায়, এটি দেওয়া হয় সেই সব মানুষকে, যারা সবচেয়ে বোকার মতো মা’রা যান। ১৯৮০ সালে এক দল মানুষের মাথা থেকে এই বুদ্ধি আসে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে ১৯৯৩ সালে। গবেষক ও লেখক ওয়েন্ডি নর্থকাটের নেতৃত্বে এই ধারণাটি একটি সিনেমার বিষয়ও হয়েছিল, শিরোনাম- ডারউইন পুরস্কার, পরিচালনা করছিলেন ফিন টেইলর, ২০০৬ সালে।

ফুট ইন মাউথ পুরস্কার

এই পুরস্কার দেওয়া হয় এমন ব্যক্তিকে, যে বছরের সবচেয়ে বিভ্রা’ন্তিকর মন্তব্যটি করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে এর প্রচলন হয়। প্লেইন ইংলিশ ক্যাম্পেইন ম্যাগাজিন থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কার প্রথম দেওয়া হয় ইংল্যান্ডের ক্রিকেট টিমের চেয়ারম্যান টেড ডেক্সটরকে। এ ছাড়া এলিসিয়া সিলভারটন, গর্ডন ব্রাউন ও সিলভিও বারলুসকনি এ পুরস্কার জিতেছেন। জর্জ ডব্লিউ বুশকে তার প্রতিনিয়ত বিভ্রা’ন্তিকর বক্তব্যের জন্য আজীবন সম্মাননা হিসেবে দেওয়া হয় এই পুরস্কার।

ডগলাস উইলকি মেডেল

অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলকে অফিশিয়ালি অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল অথবা শুধু অ্যাসি রুলস, ফুটবল বা ফুটি বলা হয়। দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় এই খেলা। এই খেলায় হ’তাশ করা খেলোয়াড়ের জন্য রয়েছে ডগলাস উইলকি মেডেল।

ইগ-নোবেল

১৯৯১ থেকে নোবেলের ঠিক আগেই মজাদার অথচ উদ্ভাবনের নিরিখে অভিনব এমন আবিষ্কারকে সম্মানিত করে আসছে ইগ-নোবেল। মূল নোবেলের ‘প্যারোডি’ হলেও নোবেলকে হে’য় করা এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য নয় বলেই আয়োজক কর্তৃপক্ষের দাবি। পুরস্কার কমিটির এক কর্মকর্তার মতে, ইগ-নোবেলের মাধ্যমে সেই আবিষ্কারকেই সম্মান জানানো হয়, যেগুলো ‘আগে মানুষকে হাসায়, পরে ভাবায়’।

যে যে বিভাগে ইগ-নোবেল দেওয়া হয় সেই বিভাগগুলো হলো- চিকিৎসা, মনস্তত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞান, নিরাপত্তা প্রযুক্তি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, পুরাতত্ত্ব, শান্তিশৃঙ্খলা, সম্ভাবনা এবং জনস্বাস্থ্য। এ বছর মোট ৪৪ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply