নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারের কোটি টাকা লোপাট

0

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

কার্যালয়ের যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এর পরও নিজ নামে পৃথক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রায় কোটি টাকা আত্মসা’তের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদারের বিরু’দ্ধে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো কার্যালয়ের অ’নিয়ম সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ এবং কার্যালয় সিলগালা করেন। পরে মঙ্গলবার বিকালে কার্যালয়ে অন্যান্য কাজ করার স্বার্থে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সেলিম আহমদকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, একেএম বজলুর রশীদ তালুকদার সিরাজগঞ্জ জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, একনেক থেকে অনুমোদিত মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা) শিখন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিপিপির নির্দেশনানুযায়ী টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে একটি চলতি হিসাব (চলতি হিসাব নং- ৬০০৬১০২০০০৭২৫) টাঙ্গাইলের কোর্ট বিল্ডিং শাখা সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে খোলা হয়।

ওই হিসাব চলমান থাকার পরও বজলুর রশীদ তালুকদার একই শাখায় একই শিরোনামে নিজ স্বাক্ষরে অন্য একটি চলতি ব্যাংক হিসাব (নং- ৬০০৬১০২০০১৪৫৬) খোলেন। এ চলতি হিসাব খুলতে তিনি শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করেন। পরে একক হিসাব নম্বরে তিনি শিখন প্রকল্পের ৩০ লাখ ১১ হাজার ৭৯০ টাকা জমা করেন এবং ৩০ লাখ ৯ হাজার ৭৯০ টাকা একক স্বাক্ষরে তুলে নেন।

অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের শিখন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে একটি চলতি হিসাব সিরাজগঞ্জের সোনালী ব্যাংকে বিদ্যমান রয়েছে। এর পরও বজলুর রশীদ একই ব্যাংকে একই শিরোনামে একক স্বাক্ষরে অন্য একটি চলতি হিসাব খোলেন। ওই হিসাব নম্বরে শিখন প্রকল্পের সব টাকা জমা করা হয়। পরে ৫৮ লাখ ৭ হাজার ৩০৬ টাকা একক স্বাক্ষরে তুলে নেন।

সূত্র মতে, তিনি দুটি উপজেলায় বিধি অমান্য করে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকার শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপকরণ কিনেছেন। এ ছাড়া সহকারী পরিচালক কার্যালয়ের কম্পিউটার নিজস্ব বাসভবনে রেখে ব্যবহার করতেন। কোনো তথ্য, ফাইলপত্র তার অফিস সহকারীকে জানতে দিতেন না। ফলে অফিস সহকারীকে কর্তৃপক্ষ প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করেছেন।

একেএম বজলুর রশীদ তালুকদারের অ’নিয়মের বিষয়টি টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর সরদারের নজরে এলে তিনি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।

তিনি জানান, সহকারী পরিচালক বজলুর রশীদ চলতি বছরের ২৫ জুলাই টাঙ্গাইলে যোগদান করেন। এর পর তিনি অফিসের বেশ কিছু গুরুতর বে’আইনি কার্যকলাপের তথ্য পান।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান মঙ্গলবার সকালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী পরিচালকের অ’নিয়ম সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ ও কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের কক্ষ সিলগালা করেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এটি তার বিরু’দ্ধে ষড়-যন্ত্র বলেও দাবি করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান জানান, অ’নিয়মের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। কার্যালয়ে অন্যান্য কাজ করার স্বার্থে পরে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সেলিম আহমদকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম আহমদ জানান, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মশরুর ও শিক্ষা দপ্তরের সূচি রাণী সাহা।

জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালকের অনিয়ম সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply