ইথিওপিয়াকে বদলে দেয়া কৃষকপুত্র আবি আহমেদ’র কথা

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে চলমান ২ দশকের যু’দ্ধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তার নাম নাম ঘোষণা করে।

গরিব কৃষকের সন্তান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে আফ্রিকার দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির সংস্কারের নেপথ্য নায়কে পরিণত হয়েছেন আবি।

৪৩ বছর বয়সী এই আফ্রিকান নেতা নিজ সমাজ ব্যবস্থাকে একটা বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে গেছেন। সেই গতিকে তিনি সীমান্ত ছাড়িয়ে বহুদূর ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বিরো’ধী দলীয় নেতাকর্মীদের কেবল কা’রাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েই ক্ষা’ন্ত হননি, তাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় নিপী’ড়ন ও নৃশং’সতার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

এছাড়া তার পূর্বসূরি যাদের সন্ত্রা’সী আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়া করেছিল, সেই সশ’স্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের তিনি দেশে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আবি আহমেদ প্র’তিকূলতাও রয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে বিক্ষো’ভও করছেন।

গত বছর ইরিত্রিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় ইথিওপিয়া। ক্ষমতায় আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই তিনি এই অ’বিশ্বাস্য সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। এতে ১‌৯৯৮-২০০০ সালের সীমান্ত যু’দ্ধের পর গত ২০ বছরের অচ’লাবস্থার নি’রসন হয়েছে। ওই যু’দ্ধে ৭০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

ক্ষমতাসীন জোট ইথিওপিয়ান পিপল’স রেভ্যুলুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) গঠনের মধ্যে দিয়ে আবি আহমেদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।

প্রযুক্তির প্রতি তার আলাদা মুগ্ধতা রয়েছে। কিশোর বয়েসে তিনি সামরিক বাহিনীর একজন রেডিও অপারেটর হিসেবে যোগ দেন।

সরকারে ঢোকার আগে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবি পেয়েছিলেন। ইথিওপিয়ার সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা- ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ছিলেন তিনি।

পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেশাসায় বসবাস করতো তার পরিবার। তার পিতা ছিলেন একজন মুসলমান। তার ৪ জন স্ত্রীর ১ জন মুসলমান ও ৩ জন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। খ্রিষ্টান মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছেন আবি। তার ভাই বোনের সংখ্যা ১৩ জন।

বিদ্যুৎ ও পানির স্বল্পতা ছিল তাদের বাড়িতে। এমনকি তাকে ফ্লোরে ঘুমিয়ে বড় হতে হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 82
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply