ওলামা লীগের বেশে জামায়াত নেতার না’শকতা ছক, ছাত্রী সংস্থার ১৩ কর্মীসহ আটক

0

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনায় প্রকাশ্যে ওলামা লীগ করলেও গোপনে জামায়াত ও জ’ঙ্গি কার্যক্রমকে মদদ দেয়ার অভিযোগে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ ১৪ নারী জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে শহরের মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকায় বিপুল পরিমাণ জ’ঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত বইপত্র ও ল্যাপটপ সিজ করেন তারা।

এ ঘটনায় পাবনা সদর থানার এসআই মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে সন্ত্রা’সবিরো’ধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটকদের গতকাল সোমবার দুপুরে জেলহাজতে পাঠান।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহম্মেদ জানান, শহরের মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার ৫ নং সড়কের ১১৯ নং বাড়ির মালিক সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন। দোতলা বাড়ির নিচতলায় জামায়াতের নারী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংগঠনের সদস্যদের আ’স্তানা ছিল।

এখান থেকে নারী সদস্যরা মেয়েদের সংগঠিত এবং নাশ’কতার ছক পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রোববার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে বৈঠক করা অবস্থায় জামায়াতের ১৩ নারী সদস্য এবং বাড়ির মালিক কথিত ওলামা লীগ নেতা অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসাইনকে আটক করে।

ধুলাউড়ি কামিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষ যদি জ’ঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার দাবি করি। তিনি তার জামায়াত-সংশ্নিষ্টতা গোপন করে সবার কাছে নিজেকে ওলামা লীগ নেতা দাবি করতেন।

জামাল উদ্দিন আরও বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জরিফ উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে মাওলানা আনোয়ার মাদ্রাসার হাট নিজেদের কবজায় রেখে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করতেন। ৫ বছর ধরে অন্য কাউকে এর শিডিউল ক্রয় করতে দেননি বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান জরিফ আহম্মদের সহায়তায় ধুলাউড়ি মাদ্রাসায় জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসাইন মুহাদ্দিস পদ থেকে অধ্যক্ষ বনে যান।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জরিফ আহম্মদের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, অধ্যক্ষের বিরু’দ্ধে মামলা হলে তিনি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বহি’স্কার হয়ে যাবেন। ধুলাউড়ি হাট ইজারা দেওয়াসহ তার বিরু’দ্ধে সব অভিযোগ খ’তিয়ে দেখে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাটবাজার আইনে কখনও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন দাবি করেছেন, বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসাইন জামায়াতের সঙ্গে জড়িত নন। তবে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা এ দেশে কোনো নিষি’দ্ধ সংগঠন নয় যে, তারা তাদের সাংগঠনিক বৈঠক করতে পারবে না।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষের বন্ধু আব্দুল হক জানান, শিবপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় পড়ার সময় আনোয়ার হোসাইন ইসলামী ছাত্রশিবিরের পর্যায়ক্রমে সভাপতি ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান জানান, তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। আরও তদন্ত চলছে।

শেয়ার করুন !
  • 1.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!