জীবনে সিগারেটে একটি টানও দিইনি: তথ্যমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

সিগারেটের কু’ফল সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি সারা জীবনে একটি সিগারেটও খাইনি, এমনকি একটি টানও দিইনি। সিগারেটের টানের মাহাত্ম্য আজও জানি না।

আমার বন্ধুরা অনেক চেষ্টা করেছে। আমাকে একটা টান দেয়ানোর জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেছে। তাদের কথা হলো- ‘খাবি না ঠিক আছে, কিন্তু একটা টান দিয়ে দে’। কিন্তু আমি চিন্তা করেছি- একটা দিলে দ্বিতীয়টা দেয়া হবে। এভাবে সিগারেট অভ্যাসে পরিণত হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে তামাকজাত নব্যপণ্য ব্যবহার রো’ধে ‘ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও বাংলাদেশ : বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিগারেট থেকে দূরে থাকার বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সিগারেট থেকে দূরে থাকার জন্য এটির পেছনে একটি গল্প আছে। আমার ৭ বছর বয়সে মা মা’রা যান। আমার বাবা খুব সিগারেট খেতেন। তিনি ছিলেন আইনজীবী। সম্ভবত আমার বয়স তখন ৮ বছর; ওই সময় বাবা ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। ডাক্তার ওনাকে সিগারেট খেতে নি’ষেধ করেন। এরপর বাবা এসে আমাকে বললেন জীবনে কোনোদিন সিগারেট খাবি না। আমি বাবার ওয়াদা রক্ষা করেছি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি তাস খেলা শিখিনি। ইচ্ছা করেই শিখিনি। শিখিনি এজন্য যে, আমাদের প্রজন্ম তাস খেলা খেলে প্রচুর সময় ব্যয় করত। চট্টগ্রাম শহরে আমি বড় হয়েছি। আমাদের বাসা যেখানে ছিল সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে মুসলিম হাইস্কুল। হেঁটে স্কুলে যেতাম। আমার কয়েকজন বন্ধু ছিল-যারা প্রচুর উপন্যাস পড়তো, এত আস’ক্ত ছিল যে, স্কুলে যাওয়ার সময় তারা হাঁটতে হাঁটতে পড়ত।

তাদেরকে আমরা পাহারা দিতাম যাতে ফুটপাত থেকে পড়ে না যায়। আসার সময়ও তারা পড়তে পড়তে আসতো। আমি উপন্যাস পড়তাম না। উপন্যাসের এমন আস’ক্তি দেখে আমি সেটা থেকে দূরে ছিলাম।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ই-সিগারেট নি’ষিদ্ধ করেছে। এ দেশেও এটি বন্ধের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রদর্শিত উপাত্ত অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারীর সংখ্যা ২ লাখ ছিল, যা এখনও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা এক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হবে বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। কবিতায় কুঁড়েঘর আছে, বাস্তবে নেই। খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। সন্ধ্যায় একমুঠো বাসি ভাত আর কেউ চায় না। আকাশ থেকে হাতিরঝিল দেখলে মনে হয় ইউরোপের কোনো শহরে এসেছি।

তিনি বলেন, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের মানবিকভাবে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের বিকাশ। দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসলেই সঠিক পথে এগোনো সম্ভব।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিকের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারি এমপি।

বক্তব্য দেন আয়োজক সংস্থা ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকোর মহাসচিব ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী, এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ।

হার্ট ফাউন্ডেশনের এন্টি-টোব্যাকো প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আহমাদ খাইরুল আবরার বিষয়ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

শেয়ার করুন !
  • 105
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!