১৪ দলের বৈঠক সম্পন্ন হলো মেননের উপস্থিতি ছাড়াই

0

সময় এখন ডেস্ক:

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ছাড়াই সম্পন্ন হলো ১৪ দলের জরুরি বৈঠক। বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমসহ প্রায় সব শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১২টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- একাদশ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি’, মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন জোটের তোপের মুখে পড়েছেন রাশেদ খান মেনন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে, এমনটি জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ধারণা করা হচ্ছিল আজকের বৈঠকেই মেননের কাছে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। কিন্তু অ’সুস্থতার কারণ দেখিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন জোটের অন্যতম এ শীর্ষ নেতা। সোমবার রাতে মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় অনুষ্ঠিত জোটের চা চক্রেও ছিলেন না মেনন।

মেননের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষু’ব্ধ হয়ে ওঠায় আপাতত কয়েক দিন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কোনো অনুষ্ঠানে মেননকে না যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে।

সোমবার রাতে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের ধানমণ্ডির বাসভবনে জোটটির শরিক দলগুলোর নেতাদের এক চা চক্র হয়। সেখানে মেননের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে বিরো’ধ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। শরিকদের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ বিরো’ধ প্রকাশ্যেও আসছে। গতকাল মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় চা চক্রে ১৪ দলের সব শরিককে দাওয়াত দেয়া হলেও জাসদ ও ন্যাপের নেতারা সেখানে যাননি।

চা চক্রে উপস্থিত ছিলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ। কেবল ছিলেন না রাশেদ খান মেনন।

চা চক্রে দেশের সাম্প্রতিক নানা ইস্যু আলোচনায় আসে। এ সময় নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী সম্প্রতি বরিশালে রাশেদ খান মেননের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভোট হয়নি বলে দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মেননকে ডেকে তার কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার দাবি জানান।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, উনি (মেনন) সমস্যা তৈরি করেছেন, এটি উনিই সমাধান করবেন। এটি নিয়ে উনার উপস্থিতিতে আলোচনা হলে ভালো হয়।

এদিকে ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম এসেছে রাশেদ খান মেননের। ক্যাসিনো থেকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের চাঁদা নেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে আমি মনে করি, যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। যে ধরনের রাজনীতিবিদের নাম এখানে আসছে, সেটি আসাটাই উচিত হয়নি। আসাটা আমরা কখনও কল্পনাও করিনি। কারও নাম যদি আসে তাদের বিরু’দ্ধে তো দেশের আইন আছে, আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা হবে।

‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি’, ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এই বক্তব্য তুমুল বিত’র্কের সৃষ্টি করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বরিশাল জেলা পার্টির সম্মেলনে আমার একটি বক্তব্য সম্পর্কে জাতীয় রাজনীতি ও ১৪ দলের রাজনীতিতে একটা ভুল বার্তা গেছে। আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ উপস্থাপন না করে অংশ বিশেষ উত্থাপন করায় এই বিভ্রা’ন্তি সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার ওয়ার্কার্স পার্টির কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মেনন একথা বলেন।

শনিবার বরিশালে এক অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দেয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম নেতার মুখে এমন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়েছে।

অশ্বিনী কুমার টাউন হলে শনিবার ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি ও প্রধানমন্ত্রীসহ যারা নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের দেশের কোনো জনগণ ভোট দেয়নি। কারণ ভোটাররা কেউ ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেনি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, আজ দেশের মানুষের ভোটাধিকার হর’ণ করেছে সরকার। সরকার দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল করেছে, দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে দেশের গণতন্ত্রকে হ’ত্যা করা হচ্ছে। উন্নয়নের নামে আজ দেশের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কে’ড়ে নিয়েছে সরকার। তাই কেউ মুখ খুলে মত প্রকাশ করতে পারে না।

রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, বিগত সরকারের প্রধান খালেদা জিয়া ও তার হাওয়া ভবনে বসে দুর্নীতি-লুটপা’ট করার কারণে কেউ সাজা ভোগ করছেন, অন্যরা পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে সরকারে থেকে যারা দুর্নীতি-লুটপা’টসহ বিদেশে অর্থপাচা’র করছেন, তাদের বিচার করবে কে? কে নেবে তাদের অর্থের হিসাব?

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজ লু’টেরাদের আড়াল করে যতই শুদ্ধি অভিযান চালান, তাতে কিছুই হবে না। আমাকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। আমাকে মন্ত্রিত্ব দিতে চেয়েছেন। প্র’ত্যাখ্যান করেছি, তাদের প্রয়োজনে আমার মন্ত্রিত্বের জন্য কোনো আগ্রহ নেই। ওয়ার্কার্স পার্টি সবসময় অ’ন্যায়ের বিরু’দ্ধে কথা বলেছে এবং সব সময় বলে যাবে।

১৪ দলে আছি, আমরা সবসময় দুর্নীতির বিরু’দ্ধে ল’ড়াই করব। নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।

বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলুর সভাপতিত্বে জেলা সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো সদস্য আনিছুর রহমান মল্লিক।

একাদশ নির্বাচন ভোটারবিহীন হয়েছে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের এই মন্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উনি এতদিন পর এ কথা বলছেন কেন? তিনি মন্ত্রী হলে কি এমন কথা বলতেন? মন্ত্রিত্ব পেলে কি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৪ দলের বৈঠকে মেননকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  • 181
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply