মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে মেয়র নাছিরের ব্যাখ্যা

0

সময় এখন ডেস্ক:

চট্টগ্রামের প্রয়াত সাবেক মেয়র ও বীর মুক্তিযো’দ্ধা এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দীনকে সম্মেলন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মেয়রকে জিজ্ঞেস করেছি, তার যে বক্তব্য সেটা হচ্ছে- ওখানে হোস্ট (আয়োজক) ৩টি জেলা, মহানগর এবং চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ। এই ৩ জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকেরা বৈঠক করে মঞ্চে কারা কারা বসবেন এবং কোন ক্যাটাগরিতে বসবেন, সেটা নির্ধারণ করেছে। তাদের সেই নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে তিনি (হাসিনা মহিউদ্দীন) ছিলেন না। তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের নগরের প্রেসিডেন্ট। এই ক্যাটাগরির কেউ বসেনি। এটাই মেয়রের বক্তব্য।

সেতুমন্ত্রী বলেন, কিন্তু আমি যদি জানতাম, তাহলে মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে আমি তাকে সম্মানটা দিতাম। আমি জানতাম না। তিনি মঞ্চে বসতে চাইলে অবশ্যই তাকে আমি অ্যালাও করতাম। বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক ভবনে একটা প্রোগ্রাম ছিল, সেখান থেকে আমি প্রতিনিধি সম্মেলনে যখন যোগ দিয়েছি আনুমানিক সাড়ে ১২টা। ওখানে কোনো কমোশন (গোলমাল) আমি দেখিনি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা কেউ আমাকে জানায়নি। আমি ঢাকার পথে যখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাই, তখন ওই বিষয়টা একজন আমাকে জানালো। কিন্তু ওখানে কেউ এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলেনি এবং কোনো অভিযোগও কোনো পক্ষ থেকে আসেনি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের দি কিং অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকে নামিয়ে দেয়া হয়।

হাসিনা মহিউদ্দীন চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মা।

‘চট্টলার বীর’ খ্যাত মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও সমালোচনার তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ নেতারা হাসিনা মহিউদ্দীনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম গেলেও মহিউদ্দীন চৌধুরীর বাড়িতে একবার পা রাখেন, সেই পরিবারের সদস্যকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া ধৃষ্টতা।

যা ঘটেছিল:

সকাল পৌনে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দীন। মঞ্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী তাকে হাতের ইশারায় মঞ্চে ডাকেন। তখন নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর তাকে মঞ্চে পৌঁছে দেন। হাসিনা মহিউদ্দীন অতিথিদের দ্বিতীয় সারিতে বসেন।

প্রায় ১৫ মিনিট পর সভার সঞ্চালক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গিয়ে তাকে চেয়ার ছেড়ে উঠে যেতে বলেন এবং মঞ্চ থেকে নেমে যাবার নির্দেশ দেন। হাসিনা মহিউদ্দীন এরপরও বসে থাকলে মেয়র আবারও গিয়ে তাকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। তখন তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান এবং সভার পুরোসময় মঞ্চের নিচে ডানপাশে একটি চেয়ারে বসে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিনা মহিউদ্দীন বলেন, আমাকে নগর আওয়ামী লীগের কেউ না কেউ ডেকেছে বলেই আমি মঞ্চে গিয়েছিলাম। সভা আহ্বান করেছে নগর আওয়ামী লীগ। সেখানে কি আমি জোর করে উঠতে পারব? ঘটনা যা হয়েছে, সেটা নিয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না।

মঞ্চের সামনে দর্শক সারিতে বসা চন্দন ধর ও নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চু ঘটনাটি দেখেন এবং আলাদাভাবে মঞ্চের কাছে গিয়ে মেয়রের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। উভয়ে হাসিনা মহিউদ্দীনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার প্র’তিবাদ করেন।

জানতে চাইলে মহিউদ্দীন বাচ্চু বলেন, উনি (হাসিনা মহিউদ্দীন) নিজ থেকে মঞ্চে উঠেননি। মাহতাব ভাই চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে উনাকে মঞ্চে ডেকে নেন। সবাই এটা দেখেছেন। এরপরও উনাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে ভালো লাগেনি। আজ মহিউদ্দীন ভাই (এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী) বেঁচে নেই। উনার স্ত্রী কিংবা উনার পরিবারের জন্য আমরা যারা মহিউদ্দীন ভাইয়ের কর্মী, আমাদের আবেগ আছে। সেজন্য আমি মেয়র মহোদয়ের কাছে গিয়ে বলেছি, কাজটি শিষ্টা’চার বর্হি’ভূত হয়েছে। একজন কর্মী যেভাবে নেতার কাছে গিয়ে বলেন, আমি সেভাবে বলেছি। এখানে ঝ’গড়া-সংঘা’তের কোনো বিষয় নয়।

হাসিনা মহিউদ্দীনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার আগে আবদুচ ছালাম এবং আহমেদুর রহমান সিদ্দিকীকে মেয়র নামিয়ে দিলে তারাও দর্শক সারিতে গিয়ে বসেন। তবে কিছুক্ষণ পর দু’জনই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যান বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, এম এ ছালাম সাহেব মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। পত্রপত্রিকায় খবর এসেছে হাসিনা মহিউদ্দীনও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। সেজন্য সম্ভবত আ জ ম নাছির উদ্দীন সাহেব তাদের প্রতিদ্ব’ন্দ্বী ভাবছেন।

মঞ্চে বসা নিয়ে অ’প্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছিল, মঞ্চে শুধু নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারি, সহ-সভাপতিবৃন্দ এবং এমপিরা বসবেন। এছাড়া বাকি ৫টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারিরা থাকবেন। সহযোগী সংগঠনের কেউ মঞ্চে বসার কথা ছিল না।

উনি (হাসিনা মহিউদ্দীন) নিজ থেকে মঞ্চে ওঠেননি। উনাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। বাকি দু’জন আসলে না বুঝে মঞ্চে উঠে পড়েছেন। মেয়র সাহেব বলার পর ৩ জনই মঞ্চ থেকে নেমে যান। অ’প্রীতিকর কিছুই হয়নি।

তবে সভায় উপস্থিত নেতাদের অনেকে জানিয়েছেন, মঞ্চে নগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর অনেকে উপস্থিত থাকলেও তাদের মেয়রের নেমে যাবার নির্দেশনার মুখে পড়তে হয়নি।

মেয়রের অনুসারী সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ হাসনী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ মঞ্চে ঘোরাফেরা করলেও তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বক্তব্য জানতে পারেনি।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!