আওয়ামী লীগ টিকে আছে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতার ওপরেই

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আওয়ামী লীগ নিশ্চি’হ্ন হয়ে যেতে পারত ৭৫ এর ১৫ আগস্টেই। সে সময় যে অবস্থা ছিল তাতে আওয়ামী লীগের টিকে থাকার কথা নয়। ৭৫ এর পর যখন জোহরা তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হলো, তখন এটি ছিল বহুধাবিভক্ত।

মালেক উকিলের নেতৃত্বে একটা আওয়ামী লীগ হলো, মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আরেকটা হলো। এমনকি মোজাফফর হোসেন পল্টুর নেতৃত্বেও একটা আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ৩ ভাগে বিভক্ত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য ছিল এক অশ’নিসংকেত।

এই যে মুক্তিযু’দ্ধের পক্ষের মানুষরা বি’ভক্ত হয়ে গেল, নানা মত ও পথে তারা আলাদা হয়ে গেল, সেখান থেকে আওয়ামী লীগকে এক সুতোয় গাঁথা এবং তৃণমূলের মানুষকে সঙ্গে করে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা যে আওয়ামী লীগ সভাপতি থেকে নেতা এবং নেতা থেকে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরিত হয়েছেন, এটার মূল শক্তি তৃণমূল। তারাই তাঁকে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন। দলের বিভিন্ন রকমের মতবিরো’ধ এবং তাঁকে কো’ণঠাসা করার চেষ্টা সবকিছুকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রধান সাহসের জায়গাটা ছিল তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনগণ।

বাংলাদেশকে ঘিরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল সেগুলো তিনি নিজে বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। শেখ হাসিনা যেটা করেছেন তা হলো, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এবং চেতনাকে তিনি লালন করেছেন, ধারণ করেছেন এবং ওই চিন্তার সূত্র ধরেই তিনি এখনও কাজ করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এ জন্যই আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। যখন দেখা গেল মুসলিম লীগ দিয়ে বাঙলির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি তখন বাঙালির আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা।

বঙ্গবন্ধু কিন্তু ১ দিনের জন্যেও পাকিস্থান মেনে নেননি। যেদিন পাকিস্থানের জন্ম, তিনি সেদিন থেকেই চিন্তা করেছেন যে কীভাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ কারণে বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বহু বছরের লালিত স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা ছিল। সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। শেখ হাসিনা এখন সেই কাজটিই করছেন।

শেখ হাসিনার কোনো নতুন কাজ বা কর্মসূচিই বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ও স্বপ্নের বাইরে নয়। যার ফলে শেখ হাসিনা কখনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাং’ঘর্ষিক হননি। এটা একটা রিলে রেসের মতো। যেখান থেকে জাতির পিতা শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শেখ হাসিনা শুরু করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নটাকেই বাস্তবায়ন করছেন তিনি। আজ আওয়ামী লীগ একটা মহীরূহ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আর শেখ হাসিনাই হলেন আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের মূল শক্তি হলেন শেখ হাসিনা। তিনি যদি না থাকতেন তাহলে আওয়ামী লীগ থাকতে পারতো কিনা সেটা নিয়ে যেমন সন্দেহ আছে, তেমনি শেখ হাসিনা বিদায় নিলেও আওয়ামী লীগের কী হবে সেটা একটা বড় শ’ঙ্কার কারণ।

এটাও বাস্তবতা যে, আওয়ামী লীগের অন্য কোনো নেতা এখনও শেখ হাসিনার ধারে কাছেও আস্থা অর্জন করতে পারেনি। জনগণের আস্থা ছাড়া একটা রাজনৈতিক দল চলতে পারে না। কাজেই আওয়ামী লীগকে টিকে থাকতে গেলে শেখ হাসিনাকেই যতদিন সম্ভব হাল ধরে থাকতে হবে।

শেখ হাসিনার থাকা অবস্থাতেই পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করে রাখতে হবে। অন্যথায় এই দলটার পরিণতি কী হবে তা নিয়ে যথেষ্ঠ অ-নিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

শেয়ার করুন !
  • 13.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!