খালেদা জিয়ার করুণ পরিণতির নেপথ্য কারন ও ভুল সিদ্ধান্তগুলো

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। তারিখটা ১১ জুন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক। এদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই নেত্রীর বিপরীত যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ক্রমশ ক্ষ’য়িষ্ণু হতে থাকেন বেগম খালেদা জিয়া।

১১ জুনের পটভূমিতেই ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার বি-পক্ষে মানুষ গণরায় দেয়। যেই রায়ের ফল এখনও বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি ভোগ করছে। শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া, দু’জনেরই আজকের এই অবস্থানের পেছনে ওয়ান ইলেভেন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই পরিণতি কেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া কতগুলো কাজ করতেন না। সেই কাজগুলো না করার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে আজকের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এরকম ৫টি বিষয় খুঁজে বের করেছেন, যে কাজগুলো বেগম খালেদা জিয়া কখনোই তার রাজনৈতিক জীবনে করেননি। যেমন-

নিজের এবং তার পুত্র ও নিকটাত্মীয়দের বিরু’দ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি: বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে নিজের সম্বন্ধে কোন সমালোচনা, তার ভুল সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ এবং তার পুত্র ও আত্মীয়স্বজনদের বিরু’দ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কখনোই আমলে নেননি। বরং এ সমস্ত অভিযোগ যারা উত্থাপন করেছে, তাদেরকে তিনি রাজনীতি বা কর্মক্ষেত্র থেকে চিরতরে বি’তাড়িত করেছেন। এমনকি তার একান্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত একান্ত সচিব নুরুল ইসলামকে তিনি বরখা’স্ত করেছিলেন স্রেফ পুত্র তারেকের বিরু’দ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করার জন্য। বেগম খালেদা জিয়া কখনোই নিজেদের সমালোচনার ব্যাপারে আপোস করেন না।

তৃণমূলের কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের সাক্ষাৎ: বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনোই তৃণমূলকে গুরুত্ব দেননি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের উল্লেখ করার মতো কোন ঘটনা চোখে পড়েনা। তাদের সঙ্গে সৌজন্যতা বা ভালো ব্যবহার করা বা আপ্যায়ন করা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মধ্যে কেউ কখনো লক্ষ্য করেনি। তৃণমূলের কাছে তিনি অপ্সরী, দেবী হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে এই বিচ্ছি’ন্নতাই তার আজকের পরিণতির জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

নিয়ম করে ফাইল দেখা: নিয়ম করে ফাইল দেখা, পত্রিকা পড়া বা যে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ পড়ার অভ্যাসটি বেগম খালেদা জিয়ার একদমই ছিলোনা। এই কাজটি তিনি কখনোই করতেন না। বেগম খালেদা জিয়ার অধিকাংশ ফাইল নিস্পত্তি করতেন তার একান্ত সচিব বা সচিব অথবা মুখ্য সচিব। বেগম খালেদা জিয়া শুধু স্বাক্ষর করতেন। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন এমন একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি ফাইল পড়তেনও না। ফাইল না পড়ার কারণেই একাধিক মামলার মধ্যে ফেঁ’সে গেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

যে কোন বিষয়ে নেতাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা: বেগম খালেদা জিয়া খোলামেলা আলোচনা তার রাজনৈতিক জীবনে কখনোই করেননি। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বা মন্ত্রীসভার মতো শীর্ষ বৈঠকে তিনি কথা কম বলেছেন এবং শেষে একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি কখনোই অন্যের মতামত গ্রহণ করা বা দলের মধ্যে যে কোন বিষয়কে উম্মুক্ত লালন করার রীতি গ্রহণ করেননি। যে কারণে তার রাজনৈতিক জীবনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

পরিবারের উপর দলকে স্থান দেওয়া: বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনোই দলের চেয়ে দেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি। বরং তিনি সবসময় মনে করতেন, সবার আগে তার পরিবার, তারপর দল, তারপর দেশ। যে কারণে দেশের স্বার্থবিরো’ধী অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা গেছে যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। এছাড়া তিনি পরিবারের স্বার্থ দেখতে গিয়ে দলের স্বার্থকেও জলা’ঞ্জলি দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এসব কারণেই বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করার পরও বেগম খালেদা জিয়াকে আজকের পরিণতি বরণ করতে হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 842
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply