পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সাথে মন্ত্রী-এমপি সরাসরি জড়িত- রিজভীর দাবী

0

সময় এখন ডেস্ক:

পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সাথে মন্ত্রী-এমপিরা সরাসরি জড়িত অভিযোগ করে অবিলম্বে ব্যর্থ মন্ত্রী ও সরকারের পদ’ত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষো’ভ মিছিল শেষে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযু’দ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে এ বিক্ষো’ভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার দলটির কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের কেজি দেড় শতকের পর ডাবল সেঞ্চুরি পেরিয়েছে। গতকাল যোগ হয়েছে আরও ৪০ টাকা। ২৪০ টাকা ছাড়িয়েও থামেনি দাম। দাম আর কত বাড়বে এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছেন না। বরং সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী যেদিন বললেন বাজার নিয়ন্ত্রণে, তার পরদিনই এক লাফে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে যায় কেজিতে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, তাদের বক্তব্য সিন্ডিকেটকে উস্কে দিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে আছে, তা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে এভাবে লাগামহীনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন? রাজধানীর খুচরা বাজারে, পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২৪০ টাকা ছাড়িয়েছে।

রিজভী বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ মনে করে পেঁয়াজ নিয়ে যে সিন্ডিকেট লুটত’রাজ চলছে, তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি সরাসরি জড়িত। এ কারণে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বিভ্রা’ন্তিমূলক কথাবার্তা বলছে। অবিলম্বে আমরা ব্যর্থ মন্ত্রীদের পাশাপাশি সরকারের পদ’ত্যাগ দাবি করছি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ন্ত্রণমূলক উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না বলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরো’ধ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এ গণবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সরকারি এ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণমূলক। মূলত সরকারদলীয় লোক ও প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের খবর যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্যই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লোক দেখানো দুর্নীতিবিরো’ধী অভিযানে কিছু ছিঁ’চকে দুর্নীতিবাজের নাম প্রকাশের পর গণমাধ্যমে সরকারের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আত’ঙ্ক থেকে এ আদেশ জারি করা করা হয়েছে। এমনিতে গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই। দেশে যা ঘটে, যত অ’পকর্ম, দুর্নীতি হচ্ছে তার সিকিভাগও প্রকাশ পাচ্ছে না। তারপরও একের পর এক কালো আইন তৈরি করছে সরকার। বার বার কালো আইন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হর’ণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আরও অব-নতি হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, সারা শরীর ব্য’থায় কা’তরাচ্ছেন। হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনকে কোনো প্রকার চিকিৎসাই দেয়া হচ্ছে না। গত ৮ দিন তার কাছে কোনো চিকিৎসক যাননি। জরুরি ভিত্তিতে তার উন্নত চিকিৎসা না দিলে বড় ধরনের ক্ষ’তি হয়ে যাবে। আমি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুক্তিযু’দ্ধ প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পুটু প্রমুখ অংশ নেন।

শেয়ার করুন !
  • 91
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply