বস্তা-বস্তায় মজুদকৃত পেঁয়াজ ফেলে দেয়া হচ্ছে চাক্তাই খালে!

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বেশি লাভের আশায় গুদামজাত করা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যাওয়ার কারণে চাক্তাই খালে ফেলে দিচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৩ দিন ধরে খাতুনগঞ্জের পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন চাক্তাই খালে এসব পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে। খালের পাড়ে এখন বিপুল পচা পেঁয়াজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার বন্দর নগরীর চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দাম আরো বাড়বে- এই আশায় আড়তদারদের গুদামে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজে পচন ধরেছে। সে পচা পেঁয়াজ এখন আড়ত থেকে বের হচ্ছে প্রতিদিন।

সরেজমিনে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চাক্তাই খালের কিছুটা দূরে রাতের অন্ধকারে বস্তাভর্তি পচা পেঁয়াজ কে বা কারা ফেলে গেছে। পেঁয়াজগুলো আকারে ছোট। ফেলে যাওয়া পচা পেঁয়াজের বস্তা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা খাওয়ার উপযোগী পেঁয়াজ বেছে নিচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের মরিচ ব্যবসায়ী হাজী ইউনুচ আহম্মদ জানান, পেঁয়াজগুলো মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। এসব পেঁয়াজ যখন খাতুনগঞ্জে ঢুকছিল, তখন কিছুটা পচা ছিল। আর আড়তে মজুদ করে রাখার ফলে একেবারে পচে গেছে। তবে তিনি পচা পেঁয়াজের আড়তদারের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি।

এদিকে চাক্তাই এলাকার চাল ব্যবসায়ী হাজী আবছার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পেঁয়াজ পচলে ব্যবসায়ীদের কোনো লোকসান হবে না। কারণ যে পরিমাণ পেঁয়াজ পচবে, তার ক্ষ’তি পোষাতে ভালো পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেবে তারা। এখন প্রতিদিন পচা পেঁয়াজ আড়ত থেকে বের হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এই আড়তদাদের খুঁজে বের করা।

এদিকে চাক্তাই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী পচা পেঁয়াজ প্রতি বস্তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনে নিয়ে সেখান থেকে ভালো পেঁয়াজ আলাদা করছে।

আলাদা করে কিছুটা ভালো পেঁয়াজ তারা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে মানুষের কাছে বিক্রি করছে বলে জানান পচা পেঁয়াজ কেনা বাকলিয়া এলাকার মুদি ব্যবাসায়ী আলহাজ মোসলেম সওদাগর।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এহেসান উল্লাহ জাহেদী পচা পেঁয়াজের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ তো বেশিদিন মজুদ করে রাখা যায় না। এর মধ্যে ঘূ’র্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের অনেক আড়তে পানি ঢুকেছে। তখন হয়তো আড়তে পানি ঢুকে পেঁয়াজগুলো নষ্ট হতে পারে।

তবে তার এই বক্তব্যকে নাকচ করে দেন উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা বলেন, বুলবুলের কারনে চট্টগ্রামে কোনো জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাস হয়নি, খাতুনগঞ্জের কোনো আড়তে পানিও ঢোকেনি।

শেয়ার করুন !
  • 994
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply