সময় এখন ডেস্ক:
মানবসভ্যতার আদি যুগ থেকেই পেঁয়াজের ব্যবহার শুরু হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সব সমাজেই বিভিন্ন রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয়। তবে বিশ্বজোড়া পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় বাজার চীন ও ভারতে। উৎপাদিত হয় শীতপ্রধান এলাকায়।
পবিত্র কোরআনে পেঁয়াজ প্রসঙ্গ
পবিত্র কোরআনে রয়েছে বিভিন্ন মশলাজাতীয় উদ্ভিদের নাম। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো পেঁয়াজ। এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা। কোরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাসল’। পেঁয়াজ মানুষের খাবারের তালিকায় অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি অংশ।
বনি ইসরাঈলিরা জান্নাতের খাবার ‘মান্না-সালওয়ার’ পরিবর্তে যেসব খাবারের চাহিদা করেছিল, তার একটি ছিল পেঁয়াজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা! আমরা এ ধরনের খাদ্যে কখনো ধৈর্য ধারণ করব না। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। তিনি যেন ভূমিজাত দ্রব্য- শাকসবজি, কাঁকুড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদন করেন। মুসা বললেন, তোমরা কি উত্কৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃ’ষ্টতর বস্তুর সঙ্গে বদল করতে চাও? তবে কোনো নগরে অবতরণ করো। তোমরা যা চাও, নিশ্চয়ই তা সেখানে আছে। তারা লা’ঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রো’ধের পাত্র হলো। এটি এ জন্য যে তারা আল্লাহর আয়াতকে অ-স্বীকার করত এবং নবীদের অ’ন্যায়ভাবে হ’ত্যা করত। অবা’ধ্যতা ও সীমা ল’ঙ্ঘন করার জন্যই তাদের এই পরিণতি হয়েছিল।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ৬১)
ওই আয়াতে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পেঁয়াজকে নিকৃ’ষ্টতর বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জান্নাতের ‘মান্না-সালওয়া’র তুলনায় দুনিয়ার এসব খাবার একেবারেই নিকৃ’ষ্ট। তবে এর মানে এই নয় যে এসব খাবার মুসলমানদের জন্য ব’র্জনীয়। তবে হ্যাঁ, মসজিদে কিংবা কোনো সমাবেশে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়ার ব্যাপারে নি’ষেধ করা হয়েছে। কেননা এর মাধ্যমে মুখে দু’র্গন্ধের সৃষ্টি হয়, যা অন্য মানুষ ও মসজিদে থাকা ফেরেশতাদের জন্য ক’ষ্টের কারণ হবে।
পবিত্র হাদিসে পেঁয়াজ প্রসঙ্গ
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস: ৮৫৫)
তবে তরকারি ইত্যাদির সঙ্গে পাকানো পেঁয়াজ খেলে যেহেতু তেমন দু’র্গন্ধ হয় না, তাই সে ক্ষেত্রে পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে আসার অনুমতি আছে। ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের শেষাংশে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি তা (পেঁয়াজ) খায়, সে যেন তা পাকিয়ে গন্ধমুক্ত করে ফেলে।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৭০৮)
কাঁচা পেঁয়াজে স্বাস্থ্যঝুঁ’কি
কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পার্শ্বপ্র’তিক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁ’কিও কম নয়। পেঁয়াজকে বলা হয় বায়ুনাশক; কিন্তু রান্না করা পেঁয়াজ বায়ুকারক হয়ে যায়। রান্নায় বেশি পেঁয়াজ দিলে অনেক সময় পেটে গ্যাসের উদ্রেক হয়। বারবার ঢেঁকুর ওঠে। এ কারণেই হয়তো রাসুল (সা.) দু’টি গাছ খেতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ওই গাছ দু’টি থেকে খাবে, সে যেন কিছুতেই আমাদের মসজিদে না আসে। তোমাদের যদি একান্ত এটি খেতে হয়, তাহলে রান্না করে দু’র্গন্ধ দূর করে খাও। বর্ণনাকারী বলেন, গাছ দুটি হলো পেঁয়াজ ও রসুন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮২৭)
স্বপ্নে পেঁয়াজ দেখলে
স্বপ্নযোগে পেঁয়াজ দেখতে পেলে এর ব্যাখ্যা কী হবে- সে বিষয়ে ইমাম কেরমানি (রহ.) লিখেছেন, ‘স্বপ্নযোগে পেঁয়াজ মূলত অ’বৈধ সম্পদ ও অশ্লী’ল বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। তবে যিনি স্বপ্ন দেখেছেন, তিনি যদি দ্বীনদার হন, তবে এর ব্যাখ্যা হবে, তার দ্বীন ও জীবনের উন্নতি। কিন্তু তিনি যদি খারাপ মানুষ হন, তবে এর ব্যাখ্যা হবে, অ’বৈধ সম্পদ অর্জন। কোনো ব্যক্তিকে স্বপ্নযোগে পাকানো পেঁয়াজ খেতে দেখলে এর ব্যাখ্যা হবে, তওবা নসিব হওয়া।’ (আল ইশারাত: ১/৭৪৬)
বাস্তবেও যদি কেউ পেঁয়াজকে সঠিকভাবে সঠিক সময়ে ব্যবহার করে, তবে তা তার ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হজমশক্তি, ত্বকের সমস্যা ইত্যাদির জন্য উপকারী হবে। আবার কেউ যদি অপ-ব্যবহার করে, যেমন— মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা খেয়ে যায়, সে ফেরেশতাদের অভিশা’পের সম্মুখীন হবে।
পেঁয়াজ নিয়ে রাজনীতি করা অ’সাধু ব্যবসায়ীরা কোটি মানুষের অভিশা’পের পাত্র হচ্ছে। তারা পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে হারাম সম্পদ অর্জন করছে। তাদের অনেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের শা’স্তি ও লা’ঞ্ছনারও শিকা’র হচ্ছে। পরকালেও তাদের জন্য রয়েছে মহাশা’স্তি।