১৬ মেট্রিক টন পচা পেঁয়াজ ফেলা হয়েছে কর্ণফুলীতে!

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

গোটা দেশে একদিকে চলছে পেঁয়াজ সরবরাহের মা’রাত্মক সং’কট, তার উপর গত প্রায় দেড় মাস ধরে চলছে দুর্মূল্যের বাজার। এই দুইয়ে যখন সাধারণ ক্রেতাদের নাভি’শ্বাস উঠেছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন ডাস্টবিনে ও ফিরিঙ্গীবাজার এলাকার কর্ণফুলী নদীতে বস্তা বস্তা পচা পেঁয়াজ ভাসছে। এতে নগরের সচেতন মহল বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা জানান, গত ৩ দিন ধরে খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটের গুদাম থেকে ফেলা ১৫ থেকে ১৬ মেট্রিক টন পচা পেঁয়াজ তারা অপ-সারণ করেছেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম চ্যাপটারের সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে সরবরাহ সং’কট তৈরি করে দাম বাড়ানোর জন্য অ-সাধু ব্যবসায়ীদের চক্র এসব পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন। মজুদ করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় সেগুলো এখন আবর্জনার স্তুপে ফেলা হচ্ছে।

এদিকে, খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের গুদামে মজুদকৃত কোনো পেঁয়াজ নেই। মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজের চালান এসেছে, সেই চালানের পচা পেঁয়াজগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো ইচ্ছাকৃত ঘটনা নয়।

শনিবার নগরীর খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে পেঁয়াজের গুদাম ও পাইকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে বস্তায়-বস্তায় পচা পেঁয়াজ দেখা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত খাতুনগঞ্জ সংলগ্ন চাক্তাই খালপাড় ও কর্ণফুলী নদীতে এবং পাড়ে ফেলা হয় কয়েক’শ পেঁয়াজের বস্তা।

রাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সেই পেঁয়াজ নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিন নগরে আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলে দেন। তারপরও নগরের কোথাও কোথাও ছড়িতেছে পচা পেঁয়াজের দুর্গন্ধ।

নগরীর ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক আহমদ ছফা বলেন, খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট, প্রধান রাস্তা, চাঁন মিয়া বাজার ও মধ্যম চাক্তাই এলাকায় পচা পেঁয়াজ পেয়েছি। ৪টি ট্রাকে করে আমরা সেগুলো আরেফিন নগরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলেছি।

হামিদুল্লাহ মার্কেট কাঁচামাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইদ্রিচ বলেন, মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে পেঁয়াজ আসছে। যেসব পেঁয়াজ নৌকার তলায় থাকে পানি লেগে সেগুলোয় দ্রুত পচন ধরে। গুদামে আসার পর সেগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে। যেসব পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মিয়ানমারের পেঁয়াজ।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তদারকির অভাবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মজুদদারির সুযোগ নিয়েছে। মজুদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ সং’কট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। মজুদ করা যেসব পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেনি, পচে গেছে, সেগুলো এখন ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে।

শেয়ার করুন !
  • 426
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!