এফআর টাওয়ারের মালিক ও জড়িত রাজউকের ২ কর্মকর্তার জেল

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় জমির ইজারা গ্রহীতা (অন্যতম মালিক) সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুকসহ (এসএমএইচ ফারুক) ৩ জনকে কারাগা’রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এফআর টাওয়ার নকশা জা’লিয়াতি ও ইমারত বিধিমালা ল’ঙ্ঘন করে নির্মাণের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় তাদের এ কারাদ’ণ্ড দেয়া হলো।

কারাদ’ণ্ডপ্রাপ্ত অপর ২ জন হলেন- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী (নান্নু) ও সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মুহাম্মদ শওকত আলী।

আজ (রোববার) এ ৩ আসামি হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েসের আদালতে আত্ম’সমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৬ জুন নকশা জা’লিয়াতির মাধ্যমে অ’বৈধভাবে এফআর টাওয়ার ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে মালিক, রাজউকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ তলা থেকে ২৩ তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রির অভিযোগে দ’ণ্ডবিধির ৭টি ধারা এবং দুর্নীতি প্র’তিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় এ ৩ আসামির জামিন দেয় বিচারিক আদালত।

তবে গত ৫ নভেম্বর দুদকের পৃথক ৩টি আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সে জামিন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে তাদেরকে বিচারিক আদালতে ৭ দিনের মধ্যে আত্ম’সমর্পণ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত. চলতি বছরের ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে ২৭ জন মা’রা যান, আহত হন ৭৩ জন। ওই ঘটনার পর ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে এফআর টাওয়ারের জমির মূল মালিক ছিলেন প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক।

অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড। সে কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় এফআর টাওয়ার।

নকশা জা’লিয়াতির মাধ্যমে ভবনটিতে কয়েকটি তলা বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন বিএনপি নেতা তাসভীরসহ ২৩ জনের বিরু’দ্ধে ২টি মামলা করেন দুদক কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক। একটি মামলায় রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেয়া ও বিক্রি করার অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

অপর মামলাটি করা হয় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা ল’ঙ্ঘন এবং নকশা জা’লিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগে। ফারুক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল ২টি মামলারই আসামি।

শেয়ার করুন !
  • 351
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply