বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে টিভি উপহার দিয়ে আ’লীগে প্রবেশের চেষ্টা বাংলাভাইর দোসর জ’ঙ্গির

0

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারায় সেই জ’ঙ্গি বাংলাভাই’র ঘনিষ্ট সহযোগী, জামায়াত শিবির ক্যাডার ও স্থানীয় সুদভিত্তিক সংস্থা আত-তিজারার চেয়ারম্যান আবদুল হালিম এবার উপজেলার ভবানীগঞ্জ ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে’ বিশালাকায় টেলিভিশন উপহার দিয়ে আওয়ামী লীগে অনু-প্রবেশের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি ৪২ ইঞ্চি একটি স্মার্ট টিভি তার কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন ভবানীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র আবদুল মালেক মন্ডল। এ ঘটনায় বাগমারা উপজেলায় শুরু হয়েছে সমালোচনা।

এর আগে এই আবদুল হালিম উপজেলার শ্রেষ্ঠ সমবায়ীর পুরস্কারও গ্রহণ করেছেন। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগে সৃষ্ট সমালোচনার মধ্যেই তার কাজ থেকে মুক্তিযু’দ্ধ স্মৃতি জাদুঘরের জন্য নেওয়া হলো টেলিভিশন। অভিযোগ উঠেছে শ্রেষ্ঠ সমবায়ীর পুরস্কার পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের খুশি করতেই এই টেলিভিশন উপহার দিলেন বাংলাভাই’র ঘনিষ্ট সহযোগী আবদুল হালিম।

এ ঘটনায় ক্ষু’ব্ধ হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপজেলার মুক্তিযো’দ্ধারাও ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন। বাগমারার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযো’দ্ধারা ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল হালিম একজন জেএমবি ক্যাডার। সে বাংলাভাই’র ঘনিষ্ট সহযোগী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে বাংলাভাই’র সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে আবদুল হালিম সক্রিয় অংশ নিয়ে মানুষকে হ’ত্যা, নির্যা’তন করে ব্যাপক লুটপা’টের মাধ্যমে কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেন। পরে বাংলাভাই’র ফাঁ’সি কার্যকর হলে সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো। পরে এলাকায় ফিরে এসে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় লুটপা’টের টাকা দিয়ে ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড়ে চড়া সুদের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নাম দেন আত-তিজারা লি.।

বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানটি বেশ ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। অর্থলগ্নিকারী এ সংস্থার মাধ্যমে কোটিপতি বনেছেন আবদুল হালিম। এখন নিজের ‘কল’ঙ্কিত ইতিহাস’ আড়াল করতে শীর্ষ আওয়ামী লীগের নেতা ও কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে নানা উপহার দিয়ে খুশি করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আবদুল হালিম গত সপ্তাহে ভবানীগঞ্জের আওয়াম লীগ দলীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্সে বিশালাকায় স্মার্ট টেলিভিশন উপহার দিয়েছেন। তার হাত থেকে টিভিটি গ্রহণ করেছেন ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র ও পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক মন্ডল।

এ ঘটনায় ক্ষো’ভে ফেটে পড়ে উপজেলার মুক্তিযো’দ্ধা বলেন, যে কমপ্লেক্স জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মিত হয়েছে। সেখানে জাতীয় পিতা ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি রয়েছে। সেখানে জেএমবি’র কুখ্যাত ক্যাডার ও জামায়ত শিবিরের দেওয়া উপহারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে অব’মাননা করা হয়েছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, পর পর ৩ বার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ কি দেউলিয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের সঙ্গে বিরো’ধীতাকারী দলের একজনের কাছে থেকে টেলিভিশন উপহার নিতে হবে? তারা অভিলম্বে সুদের ফসল টেলিভিশনটি ফেরত দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

উপজেলা মুক্তিযো’দ্ধা কমান্ডার সাহার আলী বলেন, আবদুল হালিমের মত লোকদের অনু-প্রবেশের কারনে আওয়ামী লীগে আজ নি’ন্দিত হচ্ছে। এসব বিত’র্কিতরা গোপনে আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে। আগামীতে তারাই আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে ২২ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। তখন আমরা খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আজ ৩য় দফায় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। কী এমন অভাব পড়েছে যে একটি নি’ষিদ্ধ সংগঠনের বিত’র্কিত ব্যক্তির কাছে সামান্য টেলিভিশন উপহার নিতে হবে? তিনি বহুরুপী ও সর্বগ্রাসী কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সমালোচনা করে বলেন, তাদের পেটে গোটা বাংলাদেশ ঢুকিয়ে দিলেও তাদের ক্ষুধা মিটবে না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুল মালেক বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের আসা জনগনের জন্য খুশি হয়ে টেলিভিশন দিয়েছেন। তিনি জানতেন না আবদুল হালিম জেএমবির ক্যাডার ও বাংলাভাই’র সহযোগী। তাহলে তিনি টেলিভিশনটি গ্রহণ করতেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সরওয়ার আবুল বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে সমবায় দিবসের মেলায় তার (আত-তিজারা) দেওয়া একটি স্টলে এমপি প্রকৌশলী এনামুল হক পরিদর্শনে গেলে আবদুল হালিম তাকে একটি টেলিভিশন উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হয়তো সেই টেলিভিশনটি হস্তান্তর হয়েছে পৌর মেয়রের মাধ্যমে। এ টেলিভিশনটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আত-তিজারা লিঃ এর চেয়ারম্যান ও বাংলাভাই’র সহযোগী হিসেবে পরিচিত আবদুল হালিম বলেন, এবারের সমবায় দিবস উপলক্ষে আমার স্টলে টেলিভিশনটি ছিলো। স্টল পরিদর্শনে এসে এমপি এনামুল হক টেলিভিশনটি বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে লাগিয়ে দিতে বলেন। তাই খুশি হয়ে আমি সেখানে টেলিভিশনটি উপহার দিয়েছি। এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এমপি এনামুল হক ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন !
  • 2.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!