হুজুগে দাম বাড়লেও সরকারি তদারকিতে কমেছে চালের দাম

0

সময় এখন ডেস্ক:

হুজুগের কারণে গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে পাইকারি বাজার চাক্তাইয়ে চালের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা বেড়েছিল। সরকারি তদারকিতে এই সপ্তাহে সেই অ-স্থিরতা কেটেছে। উল্টো বেচাকেনাই কমে গেছে! মূলত লবণের মতোই অপ-প্রচার চালিয়ে চালের বাজারে কার’সাজির চেষ্টা হয়েছিল বলে ব্যবসায়ীরাই বলছেন।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর আজম বলেন, দেখুন, প্রতিবছর এই সময়ে চালের দাম সামান্য বাড়ে, কিন্তু সেটা বলার মতো নয়। আমন ধান উঠার আগে ব্যবসায়ীদের মজুদে থাকা চাল শেষ দিকে থাকায় দাম একটু বাড়ে। এবার সরকার আমন ধান উঠার আগেই কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে কৃষকের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। প্রতিবছর ধান কেনা হয় আমন ধান উঠার পর। এবার সেই কারণ যোগ করে বাজার কার’সাজি করে অপ-প্রচার চালানো হয়েছিল। পরে যখন দেখা গেল বিষয়টি লবণের মতোই হাস্যকর, তখনই চালের দাম আগের দামে ফিরে এলো।

দীর্ঘদিন ধরে চাল ব্যবসায় জড়িত ওমর আজম বলেন, কৃত্রিম অ-স্থিরতা সৃষ্টি করে ২/১ দিন হয়তো বাজারে দাম বাড়ানো যাবে, কিন্তু গুজব ছড়িয়ে স্থায়ীভাবে দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। এই কারণে বাজার আগের অবস্থায় ফিরে এলো।

চালের আড়তদাররা বলছেন, চালের বাজার ১ বছর ধরেই ম’ন্দা চলছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে যেই দাম বেড়েছে সেটাকে দাম বৃদ্ধি বলে না। কারণ ১ বছর বা ৬ মাস আগের চেয়েও চালের দাম এখন অনেক কম। তাদের মতে, দেশে ধানের বাম্পার ফলন এবং আমদানিতে উচ্চশুল্ক আরোপের পর থেকে দেশে চালের বাজারে চরম ম’ন্দা চলছে। বেসরকারি আমদানিকারকরা চাল আমদানিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলেছেন। এখন কেবল সুগন্ধি চাল আমদানি হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ মাসে চাল আমদানি হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টন; সেগুলো মূলত সুগন্ধি চাল। যেখানে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার টন। এর আগের অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল রেকর্ড পরিমাণ ৩৯ লাখ টন। মূলত সেই বছর হাওরে ব্যাপক বন্যার কারণে উত্পাদনে ধ্ব’স নামায় চাল আমদানি রেকর্ড ছুঁয়েছিল।

বেসরকারি খাতে চাল আমদানি কমার কারণ হিসেবে শীর্ষ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলছেন, স্বাভাবিকভাবে চাহিদা না থাকায় আমদানিতে উত্সাহ নেই ব্যবসায়ীদের। এখন শুধু সুগন্ধি চাল আমদানি হচ্ছে। দেশের এই অবস্থা বজায় থাকলে নতুন করে কেউ চাল আমদানি করবে না। বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।

জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমে দেশে চালের উত্পাদন ও মজুদ ভালো হওয়ায় কৃষক বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২০১৮ সালের জুন মাসে চাল আমদানিতে বিদ্যমান ০% শুল্ক সুবিধা তুলে নেয়। এর পর থেকে আগের মতোই প্রায় ২৮% শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বাকিতে চাল আমদানির সাময়িক সুবিধাও বাংলাদেশ ব্যাংক প্র’ত্যাহার করে নিয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারিভাবে ২০১৮ সাল থেকে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পরিবার ৫ জন হিসেবে আড়াই কোটি মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছে। এটি দেশের চালের বাজারে দামে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

সরকারি হিসাবে, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি ছিল রেকর্ড পরিমাণ, প্রায় ৩৯ লাখ টন। এর মধ্যে সরকারি আমদানি ছিল ৮ লাখ ৮৫ হাজার টন, বেসরকারি খাতে ছিল ৩০ লাখ ৭ হাজার টন। মূলত সে বছর হাওর অঞ্চলে ব্যাপক বন্যার কারণে উত্পাদন ক্ষ’তিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার দ্রুত চাল আমদানি করে মজুদ করে রাখে। এরপর প্রতিটি উত্পাদন ভালো হওয়ায় সরকারের গুদামে মজুদও বেড়ে যায়।

সরকারি হিসাবে, ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে চালের মজুদ আছে ১১ লাখ টন। গম মজুদ আছে ৩ লাখ ৩১ হাজার টন। এ ছাড়া সরকার ২০ নভেম্বর থেকে ৬ লাখ টন আমন ধান ও ৪ লাখ টন আমন চাল কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য দামে সংগ্রহ করবে। ফলে দাম বাড়ারও কোনো সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন !
  • 233
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!