আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আসছে ব্যাপক রদবদল, ত্যাগীদের জন্য রয়েছে সুখবর

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

দলীয় কো’ন্দল আর দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকির অভাবে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সদরের আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো সরব হয়ে উঠলেও ঝিমিয়ে পড়েছে উপজেলা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৩টি সংসদীয় আসনের ২টি আওয়ামী লীগ ও ১টি জাতীয় পার্টির দখলে। যার মধ্যে লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা পাটগ্রাম) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি ও লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী কালীগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।

নিজের নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাট-১ আসনের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ করছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি এবং সদর ও লালমনিরহাট পৌসভার ওয়ার্ড ইউনিয়নে কমিটি গঠনের কাজ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। তবে সম্মেলনের আমেজ নেই লালমনিরহাট-২ আসনের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায়।

৩টি আসনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট-২ আসনে টানা ৭ বার সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রায়ত মজিবর রহমান এমপি। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ব’ন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান আহমেদ। একাদশ জাতীয় সংসদেও তিনি নির্বাচিত হয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দিনের জাপার এ ঘাঁটি আওয়ামী লীগের দখ’লেও এলেও ধরে রাখার তৎপরতা নেই বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সারাদেশে এমন উপজেলা আরো রয়েছে। এসব আসনে পুরাতন মেয়াদো’ত্তীর্ণ কমিটিই একমাত্র ভরসা। নতুন করে কমিটি গঠন বা বর্ধিত সভার কোনো আয়োজন নেই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোপনে এসব আসনের মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছে বিএনপি। ফলে হ’তাশ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

তাছাড়া ক্ষমতাসীণ এই দলটির উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ প্রকাশ্য ২ ভাগে বি’ভক্ত রয়েছে। অনেক এলাকায় ২০১৩ সালে সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের কমিটি দিয়ে চলছে উপজেলা যুবলীগ। ২০১৪ সালের কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ। স্বেচ্ছাসেবকলীগ চলছে প্রায় ১০ বছরের অধিক পুরনো কমিটিতে। একই অবস্থা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগসহ সব সহযোগী সংগঠন চলছে মেয়াদো’ত্তীর্ণ কমিটিতে। ফলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে এক সময়ের দাপুটে আওয়ামী লীগ। প্রকাশ্য দ্ব’ন্দ্ব না থাকলেও একইভাবে মেয়াদো’ত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী সংগঠনও।

তবে যারা হতাশ হয়ে ঝিমিয়ে পড়ছেন, ভাবছেন একইভাবে আগের মতই কমিটি গঠন হবে। তাদের জন্য সুখবর- এবার সম্মেলনে আসবে ব্যাপক রদবদল। ইতিমধ্যেই কয়েকটি উপজেলায় এই রদবদলের চিত্র দেখা গেছে। পরীক্ষিত নেতাদের পদ দেওয়া হবে। নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে স্থানীয় তৃণমূলের আওয়ামী লীগকেও। এমনই বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দিয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 533
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply