‘রোহিঙ্গা নারীদের ধ-‌র্ষণের কথা অস্বীকার করতে বলেছিলেন সু চি’

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাখাইনে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর বর্ব’রতার তথ্য-উপাত্ত ও দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির ভূমিকা হেগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) তুলে ধরেছেন গাম্বিয়ার পক্ষের মার্কিন আইনজীবী তাফাদজ পাসিপান্দো।

আদালতে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের ধ-র্ষণের কথা অস্বীকার করতে বলেছিলেন অং সান সু চি। ফেসবুকে ‘ফেক রেপ’ নামে যে পেজ খোলা হয়েছে সেটিও নিয়ন্ত্রণও হচ্ছে স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তর থেকে।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে গাম্বিয়ার করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। দেশের আইনি লড়াই চালাতে হেগে গেছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় গাম্বিয়ার তথ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ৩ দিনের শুনানি শুরু হয়েছে।

মার্কিন আইনজীবী তাফাদজ পাসিপান্দো আরাকানে এখনও যে ৬ লাখ রোহিঙ্গা আছেন, তাদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকির কথা আদালতে তুলে ধরে বলেন, রাখাইনে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা শিবিরে রোহিঙ্গাদের আটক রাখা হয়েছে। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা খ’র্ব করা হয়েছে। নানা বিধি-নি’ষেধও আরোপ করা হয়েছে। জাতিসংঘ তদন্তে এসব উঠে এসেছে বলে জানান পাসিপান্দো।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের চাষাবাদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ কমানো হয়েছে, বাড়ির গবাদি পশু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভুক্ত রাখতেই এসব করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

পাসিপান্দো বলেন, রাখাইনে গণহ’ত্যার অপরাধ যাতে আর না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে পারে আইসিজে।

শুনানিতে মিয়ানমারকে গণহ’ত্যা বন্ধের নির্দেশ দিতে আইসিজের প্রতি আহ্বান জানায় গাম্বিয়া। দেশটির আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আধুনিক যুগে এই গণহ’ত্যা কোনোভাবেই গ্রহণ করা যায় না। রোহিঙ্গারাও মানুষ। খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানসহ বাঁচার অধিকার তাদের রয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার রয়েছে শিক্ষা লাভ করে ডাক্তার হওয়ার।

তিনি বলেন, আমি ২০১৮ সালে কক্সবাজারে ওআইসির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে রোহিঙ্গাদের চোখে ভয়, ক’ষ্ট ও মানবিকতার চরম অব-মাননা দেখতে পেয়েছি। সেখানে গিয়েই জানতে পেরেছি রাখাইনে গণহ’ত্যা চালানো হয়েছে। গণহ’ত্যা না হলে এত মানুষ পালিয়ে আসত না।

দ্য হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। মঙ্গলবার আদালতে গাম্বিয়ার বক্তব্য উপস্থাপনের পর বুধবার মিয়ানমার তাদের অবস্থান তুলে ধরবে।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে গাম্বিয়া এবং বিকেলে মিয়ানমার প্রতিপ’ক্ষের যুক্তি খ’ণ্ডন ও চূড়ান্ত বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবে। গাম্বিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।

মিয়ানমারের নেতৃত্বে থাকছেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। শুনানির শুরুতে আইসিজের প্রেসিডেন্ট আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ শুনানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিচারকক্ষে উপস্থিত সুধীজনদের অবহিত করেন।

বাংলাদেশ এই মামলার সরাসরি অংশগ্রহণকারী পক্ষ না হলেও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধি দল ওই শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন।

মামলার শুনানি উপলক্ষে হেগ শহরে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার ছাড়াও অন্য কয়েকটি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা হাজির হয়েছেন। মামলায় গাম্বিয়াকে সমর্থন দিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) কূটনীতিকেরাও উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী এবং মিয়ানমার সরকারের সমর্থকেরাও উপস্থিত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হলেন সোমালিয়ার বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট চীনের বিচারপতি ঝু হানকিন। বিচারকদের নির্বাচন করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ।

অন্য সদস্যরা হলেন— স্লোভাকিয়ার বিচারপতি পিটার টমকা, ফ্রান্সের বিচারপতি রনি আব্রাহাম, মরক্কোর মোহাম্মদ বেনুনা, ব্রাজিলের আন্তোনিও আগুস্তো কানকাদো ত্রিনাদে, যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ান ই ডনোহু, ইতালির গর্জিও গাজা, উগান্ডার জুলিয়া সেবুটিন্দে,

ভারতের দলভির ভান্ডারি, জ্যামাইকার প্যাট্রিক লিপটন রবিনসন, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড ক্রর্ফোড, রাশিয়ার কিরিল গিভরগিয়ান, লেবাননের নওয়াফ সালাম এবং জাপানের ইউজি ইওয়াসাওয়া।

শেয়ার করুন !
  • 69
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply