সাবেক শিবির নেতা টিপু রাজাকারের ফাঁ’সির রায় ঘোষিত

0

আইন আদালত ডেস্ক:

মুক্তিযু’দ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত হ’ত্যা, গণহ’ত্যাসহ মানবতাবিরো’ধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর বোয়ালিয়ার রাজাকার মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানের মৃ’ত্যুদ’ণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।

এর আগে ১৭ অক্টোবর এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষে যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে সিএভি (রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ) রাখেন আদালত। পরে সোমবার রায় ঘোষণার জন্য আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২৭ মার্চ এ আসামির বিরু’দ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে একই বছরের ৮ আগস্ট তার বিরু’দ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

অভিযোগ চূড়ান্তের পর তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেছিলেন, মুক্তিযু’দ্ধ চলাকালে রাজশাহীর বোয়ালীয়ায় ১০ জনকে হ’ত্যা, ২ জনকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যা’তন, ১২ থেকে ১৩টি বাড়ির মালামাল লুট করে আগুন দেওয়ার অপরাধ উঠে এসেছে তদন্তে। এসব অপরাধে এ আসামির বিরু’দ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

তিনি বলেন, মুক্তিযু’দ্ধের প্রথম দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গণহ’ত্যা চালিয়েছিল পাকিস্থানি আর্মি ও স্থানীয় রাজাকাররা। স্থানীয় সেইসব রাজাকারদের মধ্যে টিপু সুলতানই বেঁচে আছেন। তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।

মুক্তিযু’দ্ধের সময় আসামি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্র সংঘ’ পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি- বলে উল্লেখ করেন আব্দুল হান্নান খান।

তিনি বলেন, আসামি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৪ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালে অবসরে যান।

তদন্ত সংস্থা আরও জানায়, ১৯৮৪ সালের পর সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও আসামি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।

১৯৭৪ সালের ১০ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি ছাড়া পান। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি বি’স্ফোরক আইনের মামলায় মতিহার থানার পুলিশ তাকে ফের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তার বিরু’দ্ধে যে দুটি অভিযোগ

১৯৭১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টা থেকে পরদিন মধ্যরাত পর্যন্ত আসামি মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান ওরফে টিপু রাজাকার স্থানীয় অন্যান্য রাজাকার ও পাকি সেনারা বোয়ালিয়া থানার সাহেব বাজারের ১ নং গদিতে (বর্তমানে জিরো পয়েন্ট) হাম’লা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বাবর মণ্ডলকে আটক করে।

পরে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শামসুজ্জোহা হলে স্থাপিত সেনা ক্যাম্পে নিয়ে দিনভর নির্যা’তন করার পর গু’লি করে হ’ত্যা করে ডেডবডি মাটিচা’পা দেয়।

১৯৭১ সালের ২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টায় এ আসামি, স্থানীয় রাজাকার ও ৪০ থেকে ৫০ পাকি সেনা বোয়ালিয়া থানার তালাইমারী এলাকায় হাম’লা চালায়।

এ হাম’লায় আওয়ামী লীগ নেতা চাঁদ মিয়া, আজহার আলী শেখসহ ১১ জনকে আটক করে নির্যা’তন চালায়। এ সময় তারা তালাইমারী এলাকার ১২ থেকে ১৩টি বাড়ি লুট করে।

পরে আটক ১১ জনকে রাবির শহীদ শামসুজ্জোহা হলে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্প ও টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে ৪ নভেম্বর মাঝরাতে ৯ জনকে গু’লি করে হ’ত্যা করে মাটিচা’পা দেয়।

শেয়ার করুন !
  • 373
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!