পদত্যাগ আর ভিন্নমত নিয়ে ভাঙনের কবলে বিএনপি!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আগামী ১২ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়াকে যদি আপিল বিভাগ জামিন না দেয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যদি মুক্ত না হন, তাহলে বিএনপির ১ দফা আন্দোলনে যাওয়া উচিত।

ক্রমশঃ বিএনপির মধ্যে এই মত শক্তিশালী হচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একটি বড় অংশই এখন ১ দফা আন্দোলনের পক্ষে। এই সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, বিএনপির এখন হারাবার কিছু নেই কাজেই যদি আন্দোলন না করা হয় তাহলে আরো নিঃশেষ হয়ে যাবে। বরং ল’ড়াই করে যদি নিঃশেষ হয় সেটাই ভালো।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসের মত হেভিওয়েট নেতারা যারা এতদিন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, তারাও এখন ১ দফা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আর এই ১ দফা আন্দোলন করার জন্য জাতীয় সংসদ থেকে নির্বাচিত বিএনপির যে ৬ এমপি আছেন তাদেরকে পদ’ত্যাগের কথা বলেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপির তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সংসদে থেকে সরকারের বিরু’দ্ধে আন্দোলন করা এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না। এজন্য সংসদ থেকে পদ’ত্যাগ করা উচিত।

কিন্তু বিএনপির এই জনপ্রিয় দাবিকে পাশ কাটিয়ে আজ চট্টগ্রাম আসনের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করছে বিএনপি। এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা নিয়ে বিএনপিতে আরেক দফা কো’ন্দলের খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির নেতারা সংসদ থেকে পদ’ত্যাগ, ১ দফা আন্দোলন এবং চট্টগ্রাম ৮ আসনের নির্বাচন নিয়ে কার্যত দ্বি’ধা বি’ভক্ত হয়ে পড়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা মনে করেন, এখনই ১ দফা আন্দোলন করার উপযুক্ত সময় নয়, বরং ধাপে ধাপে সংগঠন গুছিয়ে আন্দোলন শুরু করা দরকার এবং সেইজন্য তিনি চট্টগ্রাম ৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষপাতী।

জানা গেছে, লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও চট্টগ্রাম ৮ আসনে নির্বাচনের পক্ষে। তবে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে তারেকের আগ্রহ ভিন্ন। কারণ এই আসনে নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে মনোনয়ন বাণিজ্য করা যাবে এবং তারেক কিছু অর্থকড়ি পাবেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, সরকারের সাথে সমঝোতা করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব এবং তার এই মতের সাথে দলের একটি ক্ষুদ্র অংশ রয়েছে। বিশেষতঃ স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সেলিনা রহমানসহ আরো কয়েকজন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সমর্থন করেন।

অন্যদিকে বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে অধিকাংশ নেতা মনে করেন, সরকারের সাথে আপোষ, সমঝোতা বা আলাপ-আলোচনা করে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করার এটাই ভালো সময় বলে মনে করেন। এজন্য তারা ৩টি করণীয় ব্যাপারে দলের মধ্যে প্রচারণা করছে।

প্রথমত- ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া হলে ১ দফা আন্দোলন শুরু করা হবে এবং এই ১ দফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সরকারের সঙ্গে অ-সহযোগিতার ডাক দিয়ে ১ দফা আন্দোলনকে একটা পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চায়।

দ্বিতীয়ত- বিএনপির এই অংশ মনে করছে বিএনপির যে সমস্ত নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে, তাই এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়নি এবং অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে হয়নি। কাজেই এই নির্বাচনে যারা সংসদে গেছেন বা উপজেলা চেয়াম্যান হয়েছে তাদের পদ’ত্যাগ করা। এর ফলে সরকারের উপর একটা চাপ তৈরি হবে।

তৃতীয়ত- বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া।

তবে এই কোন্দ’লের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ জয়ী হবেন তা এখনো অনিশ্চিত। আন্দোলনের শুরুতেই দ্বি’ধা বি’ভক্ত বিএনপি আরেকবার ভাঙনের মুখে পড়বে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 207
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!