কুমিল্লায় দিনের পর দিন ভাইয়ের লালসায় ২ বার অন্তঃসত্ত্বা সৎ বোন

0

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

দিনের পর দিন সৎ ভাই মেহেদি হাসানের লালসার শি’কার হয়ে আসছিল ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৫)। এতে একবার নয়, দু’বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার বাবাকে হ’ত্যার হুম’কিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভিক্টিমের।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। জানা গেছে, সৎ ভাই মেহেদি হাসান (২২) ওই স্কুলছাত্রীকে অ’নৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করে। এতে প্রথমেও একবার অন্তঃসত্ত্বা হয় সে। সন্তান প্রসবের পর মেহেদি তাকে হ’ত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভিক্টিম জানায়, তাদের মা বিষয়টি জানার পর তার পায়ে পড়ে মাফ চেয়ে এমন কাজ ২য় বার না করার কথা দেয় সে। কিন্তু আবারও বোনকে জোর করে অ’নৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করে মেহেদি। এতে করে ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ভিক্টিম।

এমন ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভিক্টিমের বাড়ি গিয়ে কথা হয় মেহেদির বাবার সঙ্গে। তিনি জানান, ১২ বছর আগে ৫ মেয়ে ও ২ ছেলে রেখে মা’রা যান তার স্ত্রী। পরে তিনি পাশের ইউনিয়নের এক বিধবা নারীকে বিয়ে করেন। সেই নারীর একটি মেয়ে (ভিক্টিম) থাকায় তাকেসহ বাড়িতে তোলেন তিনি।

মেহেদির বাবা আরও জানান, ৫ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা শ্বশুরবাড়ি থাকে। বড় ছেলে তাবলীগ জামায়াতে থাকায় দু’টি ঘরের একটি বাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন তারা। একটি ঘরে স্ত্রীসহ তিনি এবং অন্য ঘরে থাকত মেহেদি ও তার এই বোন (ভিক্টিম)। দু’জনই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মেহেদি কলেজছাত্র ও ভিক্টিম ৯ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী।

ভিক্টিম ওই মেয়ে জানায়, ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়ায় বড় ভাইকে মাঝে মাঝে পড়াতো সে। একসঙ্গে পড়তে বসায় মেহেদি তার দিকে কু’নজর দিতো। পড়ার সময় মজার ছলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতো। একদিন কু-প্রস্তাব দেয় সে। রাজি না হলে হ’ত্যার হুম’কিও দেয় মেহেদি।

ওই স্কুল ছাত্রী আরও জানায়, একদিন মেহেদি আমাকে কু-প্রস্তাব দেয়। রাজি না হলে বাবাকে মে’রে ফেলে মায়ের কাঁধে দোষ চাপানোর কথা বলে। এই ভ’য়ে আমি কিছু বলতে পারতাম না। বিভিন্ন সময় শরীরের স্পর্শকা’তর স্থানে হাত দিতো মেহেদি। একদিন ঘরে কেউ না থাকায় জোর করে অ’নৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করে আমাকে।

এরপর থেকে লাগাতার তার সঙ্গে অ’নৈতিক সম্পর্ক করত মেহেদি। বাবাকে হ’ত্যা করা ছাড়াও বিভিন্ন হুম’কি দেওয়ায় নির্যা’তন মুখ বুঝে সহ্য করত। এর মধ্যে একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। মেহেদি তার পেটের বাচ্চা ন’ষ্ট করার জন্য বিভিন্নরকম ও’ষুধ খাওয়াতো। একদিন তাদের মা বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা’বাদ করেন। তখন সে মাকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। ছেলেকে প্রশ্ন করতেই মায়ের পা ধরে নিজের ভুল স্বীকার করে মেহেদি। মেয়েকে বিয়ে করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয় মেহেদি।

ভিক্টিম জানায়, বাচ্চা ন’ষ্ট হয়েছে ধারণা ছিল মেহেদির। কিন্তু গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে প্রসব ব্যাথা ওঠে তার। রাতেই নিজের ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেয় সে। এদিকে সন্তান জন্ম নেওয়ায় বিপাকে পড়ে মেহেদি। পরে মায়ের কোল থেকে সন্তান কেড়ে নিয়ে যায় সে।

ভিক্টিমের অভিযোগ, তার সন্তানকে হ’ত্যা করেছে মেহেদি।

ওই স্কুলছাত্রী আরও জানান, মাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে বিয়ে করবে দোহাই দিয়ে আবারও তার সঙ্গে অ’নৈতিক সম্পর্ক করে মেহেদি। বর্তমানে সে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর পেয়ে পালিয়ে যায় মেহেদি। অ’জ্ঞাত স্থান থেকে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে ঘটনা কাউকে জানালে মে’রে ফেলার হুম’কি দিচ্ছে সে।

বিষয়টি নিয়ে মেহেদির বড় বোনের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, কে আপনি? আপনি এত কিছু জানেন কীভাবে? এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিলে ফোন কে’টে দেন তিনি।

এ বিষয়ে মেহেদির বাবা জানান, তিনি ঘটনাটি জানেন। এ কারণে ছেলের সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক নেই। এমন কু’লাঙ্গার ছেলে যেন কারও ঘরে জন্ম না নেয়। সে আমাকেও মে’রে ফেলার হুম’কি দিচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।

বিষয়টি নিয়ে রাজামেহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমন ন্যা’ক্কারজনক ঘটনা আমার ইউনিয়নে হচ্ছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ভিক্টিমকে যেকোনো সহায়তা করা হবে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, ভিক্টিমের পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ভিক্টিমকে যেকোনো আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!