রাজাকারের তালিকাটি আবার যাচাই-বাছাই করা দরকার: শাহরিয়ার কবির

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজাকারের তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন একাত্তরের ঘা’তক-দালাল নির্মূ’ল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

প্রকাশিত তালিকায় ভাতাভুক্ত মুক্তিযো’দ্ধাদের নামও পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা খবর আসতে শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শাহরিয়ার কবির এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাজাকারের তালিকা বা যু’দ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এটি সম্পন্ন করা হয়েছে তা নিয়ে সমালোচনা আছে। তারা আমলা দিয়ে এ তালিকা প্রণয়ন করেছেন। এটা আমলাদের কাজ নয়। এর সঙ্গে মুক্তিযু’দ্ধের গবেষক বা বিশেষজ্ঞ কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। যার ফলে বিত’র্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মুক্তিযু’দ্ধের গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এ অবস্থায় এ তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই করে আবারও প্রকাশ করতে হবে এবং এ কাজটি সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, বলা হচ্ছে, রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এখানে আল-বদর, আল-শামস্, আল-মুজাহিদদেরও নাম রয়েছে। এগুলো আলাদাভাবে করার দরকার ছিল। সে সঙ্গে শুধুমাত্র নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের সার্বিক পরিচয় এবং অপরাধের ধরণ সম্পর্কে কোনো কথা নেই।

তিনি আরও বলেন, এ তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর নাম এসেছে। এটা বিস্ময়কর!

প্রসঙ্গত, ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ও একাত্তরের ঘা’তক দালাল নি’র্মূল কমিটির তথ্যানুযায়ী, একাত্তরের মে মাসে মুক্তিযু’দ্ধের সময় বাঙালি নি’ধনে পাকিস্থানি সেনাদের সহায়তা করতে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনায় খান জাহান আলী রোডের একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন পাকিস্থানপন্থী কর্মী নিয়ে প্রথম গঠিত হয় রাজাকার বাহিনী। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য এলাকায়ও গড়ে তোলা হয় রাজাকার বাহিনী।

শুরুতে রাজাকার বাহিনীকে এলাকার শান্তি কমিটির নেতৃত্বাধীন রাখা হলেও একাত্তরের ১ জুন পাকিস্থানের জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্থান রাজাকার অর্ডিন্যান্স জারি করে আনসার বাহিনীকে রাজাকার বাহিনীতে রূপান্তরিত করেন। তবে এর নেতৃত্ব ছিল পাকিস্থানপন্থী স্থানীয় নেতাদের হাতে।

পাকিস্থানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অধ্যাদেশ বলে রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সদস্যরূপে স্বীকৃতি দেয়। এর সংখ্যা ছিল অন্তত ৫০ হাজার। তাদের চিহ্নিত করার চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের।

শেয়ার করুন !
  • 809
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply