মাগুরায় রাজাকারের তালিকা প্রকাশে প্রশাসনের অনীহা!

0

মাগুরা প্রতিনিধি:

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সারাদেশে একযোগে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও মাগুরায় এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। মুক্তিযো’দ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বা শেখ কামাল ইনডোর স্টেডিয়ামে মুক্তিযো’দ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজাকারের তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তিদের নি’র্লিপ্ততা লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ইনডোর স্টেডিয়ামে মুক্তিযো’দ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক আশারাফুল আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। কারা ওই সময় ভাতাপ্রাপ্ত রাজাকার ছিলেন তা যাচাই বাছাই শেষে যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এদিকে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ না করায় ইনডোর স্টেডিয়ামে উপস্থিত বেশ কয়েকজন মুক্তিযো’দ্ধা ক্ষো’ভ প্রকাশ করেন।

জেলা কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলী জানান, সদর উপজেলা থেকে তারা ৪০৪ জন রাজাকারের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন। অন্য ৩ উপজেলায় তালিকা প্রণয়নে কিছূটা সমস্যা হওয়ায় তারা বাকিগুলো জমা দিতে পারেননি।

তিনি আরো জানান, একাত্তর সালে মাগুরায় মোটা দাগে যারা পাকি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন তার মধ্যে আইয়ুব চৌধুরী, পীর ওবাইদুল্লাহ, জোহা উকিল, আবু মিয়া, চান্দ আলী, মওলানা মতিন, আইনাল ডাক্তার, হাবিবুর রহমান, ওয়াজেদ আলী, মনসুর মীর, এমএ আওয়াল, রিজু, কবির অন্যতম। তবে এর মধ্যে রিজু ও কবির সে সময় ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তারা পাকি বাহিনীর কসাই হিসেবে কাজ করতেন।

জেলা কমান্ডারের দাবি, রিজু ও কবির মিলে যু’দ্ধের সময় অন্তত ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মানুষকে হ’ত্যা করেছেন।

রাজাকারের তালিকাটি আবার যাচাই-বাছাই করা দরকার: শাহরিয়ার কবির

রাজাকারের তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন একাত্তরের ঘা’তক-দালাল নির্মূ’ল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, রাজাকারের তালিকা বা যু’দ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এটি সম্পন্ন করা হয়েছে তা নিয়ে সমালোচনা আছে। তারা আমলা দিয়ে এ তালিকা প্রণয়ন করেছেন। এটা আমলাদের কাজ নয়। এর সঙ্গে মুক্তিযু’দ্ধের গবেষক বা বিশেষজ্ঞ কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। যার ফলে বিত’র্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মুক্তিযু’দ্ধের গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এ অবস্থায় এ তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই করে আবারও প্রকাশ করতে হবে এবং এ কাজটি সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, বলা হচ্ছে, রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এখানে আল-বদর, আল-শামস্, আল-মুজাহিদদেরও নাম রয়েছে। এগুলো আলাদাভাবে করার দরকার ছিল। সে সঙ্গে শুধুমাত্র নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের সার্বিক পরিচয় এবং অপরাধের ধরণ সম্পর্কে কোনো কথা নেই।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!