বিএনপিকে হিন্দু নিপী’ড়ক বলায় অমিত শাহ’র বক্তব্যের প্র’তিবাদ

0

সময় এখন ডেস্ক:

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আলোচনায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেছেন বলে দাবী করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ বক্তব্য প্র’ত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন এক সোনালী অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে- দু’দেশের নেতারা প্রায়ই এমন দাবি করলেও ভারতের লোকসভায় অমিত শাহ বলেছেন সেই বন্ধু প্রতিম বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরা এখনও নির্যা’তনের শি’কার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বিরু’দ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন- বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাবস্থায় সেখানে ব্যাপক হারে সংখ্যা-লঘু নির্যা’তন হয়েছে। ফলে অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে পালিয়ে এসেছে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, হিন্দুত্ব’বাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বিএনপির কাঁধে ব’ন্দুক রেখে এ অঞ্চলের রাজনীতিকে একটি অসুস্থ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের কথা এড়িয়ে গিয়ে বিএনপির মতো একটি অতি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের বিরু’দ্ধে মিথ্যাচার করায় এটি প্রমাণিত হয় যে, বর্তমান ভারত সরকার তার সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসি’দ্ধির জন্য বাংলাদেশের জনগণের পরিবর্তে আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বেশি আগ্রহী।

তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে যে, বিজেপির সভাপতি ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রাবীশ কুমার উভয়ের বক্তব্যই দুঃখজনকভাবে অ’সত্য। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য আমরা প্র’ত্যাখ্যান করছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে একটি সাম্প্র’দায়িক স’ম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের সময় বরাবরই বাংলাদেশে সাম্প্র’দায়িক স’ম্প্রীতি অ-ক্ষুন্ন ছিলো। এমনকি বাবরী মসজিদ সং’কট এবং গুজরাট-দা’ঙ্গার সময়ও খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশে সাম্প্র’দায়িক স’ম্প্রীতি বজায় ছিলো। বিএনপির সরকার স’ম্প্রীতি অ’টুট রাখতে সফল হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নাগরিক সংশোধনী আইনকে অ-গণতান্ত্রিক, অ-সাংবিধানিক ও মানবতাবিরো’ধী দাবী করে সারা ভারতে এখন প্র’তিবাদ চলছে। কোথাও কোথাও যা সহিং’সতায় রূপ নিয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যমও এ বিষয়ে সোচ্চার। কেবলমাত্র সংখ্যা-লঘু মুসলিম সম্প্র’দায়কে টার্গেট করেই এ আইন প্রণীত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এমনকি ভারতের বিবেকবান মানুষও এ আইনের বিরু’দ্ধে প্র’তিবাদ ও বিক্ষো’ভ করছে।

তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণের এ সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হচ্ছে। জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক দেশ ও বিবেকবান জাতিগোষ্ঠী এই আইনের কারণে চরমভাবে উৎ’কণ্ঠিত। এরই মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) মার্কিন প্রশাসনকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষে’ধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার সুপারিশ জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়, এই অ-সন্তোষ কেবলমাত্র ভারত নয়, ক্রমেই গোটা উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতি-শীলতাকে বিন’ষ্ট করবে। ব্যা’হত হবে এ অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় জনগণের সাম্প্র’দায়িক স’ম্প্রীতির চেতনা এবং ঐতিহ্যকে। যার সুদূরপ্রসারী কু-প্রভাবের শি’কার হতে হবে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ-ভারত মধ্যকার ‘সু-সম্পর্কের সোনালী অধ্যায়ের’ এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনআরসি’র কারণে বাদপড়া নিরীহ ভারতীয় নাগরিকদের ‘উইপোকা’ আখ্যায়িত করে প্রত্যেককে ভারত থেকে বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আসামের গোয়ালপাড়ায় এরই মধ্যে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ নির্মাণ করা হয়েছে। সারা ভারতে আরও অনেকগুলো ‘ডিটেনশন সেন্টার’ নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য আর একটি রোহিঙ্গা সং’কটের সূত্রপাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমনিতেই ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে বাংলাদেশ ভারা’ক্রান্ত। এর ওপর এনআরসি উ’দ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যেভাবে নি’র্বিকার রয়েছে, তা স্পষ্টই আমাদের জনগণ, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রবিরো’ধী অবস্থান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শেয়ার করুন !
  • 445
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!